আফগানিস্তানে ১৫ বছরের বেশি ও ৪৫ বছরের কম বয়সী বিধবা নারীদের যৌনদাসী হিসেবে চায় তালেবানরা

রাগিব হাসান বর্ষণঃ দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সৈন্য ত্যাগ করার সাথে সাথেই দেশটিতে আবার দাপট দেখাতে শুরু করেছে তালেবানরা, প্রতিনিয়ত দেশটিতে নতুন নতুন জায়গা সরকারী বাহিনির কাছ থেকে দখলে নিচ্ছে এবং কঠোর শরিয়াহ আইন চালু করছে।

এমতাবস্থায় তালেবান সংস্কৃতি কমিশনের নামে একটি বিজ্ঞপ্তি আফগানিস্তানের নারীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ বছরের উর্ধ্বের সকল নারী এবং ৪৫ বছরের কম বয়সী সকল বিধবাদের তালিকা স্থানীর ইমামদের সরবারহ করতে বলা হয়েছে, এইসকল নারীদের মূলত যৌনদাসী হিসেবে তালেবান যোদ্ধাদের সাথে বিয়ে দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
চলমান অস্থিরতার মাঝে নতুন করে এমন সংবাদ আসলে জানান দিচ্ছে পুনরায় আফগানিস্তানে আসলে কি ঘটতে চলেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীর ইমামদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নারীদের তালিকা করার জন্য এবং এইসকল নারীদের যেসকল জায়গাতে তালেবান যোদ্ধারা যুদ্ধরত আছে সেইসব জায়গাতে নিয়ে যোদ্ধাদের সাথে বিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

হাজী রোজি, একজন বয়ষ্ক আফগান, তিনি বলেন যখন সরকারের প্রভাব তার এলাকায় বজায় ছিলো তখন তারা একটু হলেও স্বাধীনতার স্বাদ পেতেন কিন্তু তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় স্বাধীনতা বলতে কিছুই বাকি নেই।
পুরো আফগানিস্তানের নারী সমাজই এখন আতংকিত, মেয়েদের ঘরের বাইয়ে যাওয়া যাবে না, স্কুলে যাওয়া যাবে না এসকল নিয়ম এখন পরিপূর্ণ ভাবে তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকাতে চালু আছে, এছাড়াও যোদ্ধাদের যৌনদাসী হিসেবে মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অনেক পাওয়া যাচ্ছে বর্তমানে।
সরকারি বাহিনীর যুদ্ধে ক্রমাগত পরাজয় এবং পশ্চিমা সেনাদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রের কারণেই তালেবানরা আরো শক্তিশালী হচ্ছে দিনের পর দিন।

আফগানিস্তান বরাবরই মেয়েদের জন্য ঝুকিপূর্ণ এবং চলমান পরিস্থিতিতে তা আরো বেশি ঝুকিপূর্ণ, এমতাবস্থায় এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সূত্রঃ দ্যা সান

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,