লটারি প্রক্রিয়ায় এইচ-১বি ভিসা দেবে আমেরিকা; বাড়ছে কাজের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লটারি প্রক্রিয়ায় এইচ-১বি ভিসা দেওয়া শুরু করল আমেরিকা। সে দেশের নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন সংক্রান্ত দফতরের (ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস) তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। বিদেশি দক্ষ কর্মীদের অস্থায়ী ভাবে আমেরিকায় কাজের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইউএসসিআইএস।

এই ভিসা অস্থায়ীভাবে আমেরিকা যাওয়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য। তাই একে নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বলা হয়। এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকার যেকোন একটি প্রবেশদ্বারে যেয়ে (পোর্ট অব এন্ট্রি) সিকিউরিটি দপ্তরের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন অভিবাসন কর্মকর্তার মাধ্যমে আমেরিকায় প্রবেশ করা যায়।

গত ফ্রেব্রয়ারিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নেন  জো বাইডেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামানার ভিসা নীতি বদলের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এ বার সেই নীতি মেনেই শুরু হয়েছে লটারি প্রক্রিয়া। এর ফলে আমেরিকায় তথ্যপ্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের কাজের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি হবে বিদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় কাজের সুযোগ দেওয়ার দ্বিতীয় লটারি।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২৮ জুলাই এ পর্যন্ত পাওয়া এইচ-১বি ভিসার আবেদনগুলি প্রাথমিক বাছাই হয়েছে এবং ২ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে লটারির মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাছাই-পর্ব, এটি চলবে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।

কোভিড পরিস্থিতিতে গত বছর এইচ-১বি ভিসা নীতির পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকার ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লটারি নীতি বাতিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, কর্পোরেট সংস্থাগুলি কম বেতনে বিদেশ থেকে লোক নিয়োগ করায় আমেরিকা নাগরিকরা কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই বিদেশ থেকে লোক নিয়োগ করার সময় এ বার ‘দক্ষতা’ এবং ‘বেতন কাঠামো’কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়েই ট্রাম্প আমলের ওই সিদ্ধান্ত বদলের কথা ঘোষণা করেন।

ইতোমধ্যে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সংগ্রহের জন্য এমআরভি ফি’র মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ ব্যাপারে অবগত যে অনেক ভিসা আবেদনকারী তাদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রদান করেছেন এবং এখনও ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করছেন।

বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ ব্যাপারে বলেছে, আমরা যথাসম্ভব দ্রুত এবং নিরাপদভাবে সকল নিয়মিত ভিসা পরিষেবাগুলি আবার চালু করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে আশ্বস্ত করা যাচ্ছে যে, মার্কিন দূতাবাস আপনার ফি প্রদানের বৈধতা (যা এমআরভি ফি হিসেবে পরিচিত) ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে কনস্যুলারের নিয়মিত কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার কারণে যেসকল আবেদনকারীরা তাদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করতে পারেননি, তাদের ইতিমধ্যে প্রদেয় ফি দ্বারা ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করার এবং/অথবা তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,