যে কারণে তালেবান শাসন চায় না আফগানিস্তানের নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তালেবানের কঠোর শরিয়াহ আইন জারিকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গতমাসে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন আফগানিস্তানের নারীরা। তালেবানের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর নারীদের এরকম প্রকাশ্য বিক্ষোভ তালেবানদের শাসন সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিচ্ছবি।

তালেবান যখন আফগানিস্তানে শাসন করেছিল এবং শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা প্রয়োগ করেছিল, সেই সময়ের অনেক স্মৃতি রয়েছে কলেজের অধ্যাপিকা মোকাদাসা রসৌলির।

রসৌলি জানান, রঙিন স্যান্ডেল এবং নেলপলিশ ব্যবহার করার জন্য একদল নারীকে বেত্রাঘাত করতে দেখেছি। আরেকবার আমারেচেয়ে বয়সে ১০ বছরের বড় এক প্রতিবেশী নারীকে পেটানো হয়েছে হিজাব না পরার কারণে।

রসৌলি এবং অন্য মেয়েরা যে স্কুলে পড়তেন, সে ব্যাপারে জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছিল তালেবানরা।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে ৩১ বছর বয়সী রসৌলি বলেন, আফগান নারীরা কোনোভাবেই অন্ধকার যুগের পুনরাবৃত্তি চায় না।

অনেকের শঙ্কা, আফগান শাসন ফিরে এলে তারা মারা পড়তে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষের মধ্যে সকল মার্কিন সৈন্য আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করা হবে। এতে করে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে। যদিও নিরাপত্তা পরিস্থিতি একেবারে খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল তালেবানদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। টুইন টাওয়ারে হামলার জেরে তালেবানদের ওপর চটেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তালেবানরা ধর্মের নামে বৈষম্য এবং ভয়াবহ সহিংসতা সংঘটিত করে। তবে তালেবানদের এমন শাসন থেকে নারীদের রক্ষা করার জন্য স্পষ্টভাবে অভিযানে নামেনি যুক্তরাষ্ট্র। অথচ, আফগানিস্তানে ধর্ষণ, অপহরণ এবং জোরপূর্বক বিয়ের মতো অপরাধ করেছে তালেবানরা।

জানা গেছে, তালেবানরা মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দিত এবং নারীদের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে কাজ করার বিরোধী। পুরুষ স্বজন ছাড়া কোনো নারী বাইরে বের হওয়াও মেনে নেয় না তালেবানরা। সংখ্যালঘুরা বরাবরই তালেবানদের টার্গেট।

রসৌলি বলেন, আমাকে হয়তো পাথর মেরে ফেলা হবে কিংবা জনসম্মুখে শিরোশ্ছেদ করা হবে।

কাবুল পুলিশ বিভাগে অপরাধ তদন্তকারী হিসেবে কর্মরত আছেন ২২ বছর বয়সী ওয়াজমা সাহিল। তিনি বলেন, তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে আফগানিস্তানে আমার সম্ভাব্য কোনো জীবন দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি আরো বলেন, তালেবান যদি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে আমিসহ অন্য যারা পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছি; আমাদের জনতার সামনে পাথর মেরে কিংবা মাথা কেটে ফেলবে তালেবান।

জানা গেছে, ২০২০ সালের জুলাইয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তা ফাতিমা রাজাবিকে হত্যা করেছে তালেবান। ওই বছরের জুনে আফগানিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা ফাতিমা নাতাশা খালিলকে রাস্তায় বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয় তালেবান।

২০২০ সালেই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে কর্মরত মরিয়ম নূরজাদকে হত্যা করে তালেবান। নূরজাদ, তার রোগী এবং নবজাতককে হত্যা করে তালেবানরা।

সূত্র: দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,