আফগানিস্তানে চলবে চীনা শাসন, ৯০ দিনে কাবুলের পতন নিশ্চিত!
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় ঘনিয়ে আসছে, এই সুযোগে আফগানিস্তানে উপস্থিতি বাড়িয়ে দিতে পারে চীন। এমনটাই মনে করেন লন্ডনের লেখিকা জেসিকা তানিজা।
সম্প্রতি একটি কলামে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়াও চীন এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে। চীনের জন্য আফগানিস্তান একটি কৌশলগত জায়গা, যে জায়গার মাধ্যমে এশিয়ায় নিজেদের শক্তি সংহত করতে সক্ষম হবে চীন।
তিনি আরো মনে করেন, চীন এখন শান্তিরক্ষী হওয়ার এবং সহিংসতাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। তবে হুট করেই এই অঞ্চল নিয়ে চীনের আকর্ষণ দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
জেসিকা তানিজা বলেন, বহু বছর ধরে তালেবান এবং তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ায়, চীন দায়মুক্তভাবে কাজ করার এবং তালেবান নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে।
তানিজা মনে করেন, তালেবান নিয়ন্ত্রিত জাতির প্রতি চীনা বাণিজ্য সহায়তার বিষয়টি এই অঞ্চলে শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে। তালেবান নেতারা এই অঞ্চলের পুনর্গঠনের দিকে নজর দিলে, চীন দেশটিকে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন সহায়তা দেবে। অবশেষে আফগানিস্তান নিজেদের ঋণের মধ্যে ডুবে যাবে এবং বেইজিং আফগানিস্তানের মূল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
এদিকে আফগানিস্তানে তালেবান যে গতিতে একের পর এক এলাকা দখলে নিচ্ছে, সেই হিসেবে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কাবুলের দখল নিয়ে নিতে পারে তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি রিপোর্টে আতঙ্কের এই ছবিই তুলে ধরা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই রিপোর্টের ব্যাপারে জানিয়েছেন। তাদের শঙ্কা, তালেবান যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ক্রমান্বয়ে যে পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করছে, তাতে এক মাসের মধ্যে কাবুলকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারবে তারা।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, পরে আরো ৬০ দিনের মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানীকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে পারবে তালেবান। সেই হিসেবে ৯০ দিনের মধ্যে কাবুলের পতন অনিবার্য!

