উদ্ভিদনাশক সহনশীল, নন-জিএম ধানের জাত উদ্ভাবন ভারতের

হালিমা তুজ্জ সাদিয়াঃ

ভারত এই প্রথম উদ্ভাবন করলো উদ্ভিদনাশক (আগাছানাশক)- সহনশীল, নন-জিএম ধানের জাত।

ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএআরআই), এই নন-জিএম (জেনেটিকালি মডিফাইড) উদ্ভিদনাশক (হার্বিসাইড)-সহনশীল ধানের জাত তৈরি করেছে যা সরাসরি বপন করা যাবে। এই ধান চাষের দ্বারা কম খরচে এবং কম পানি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফসল পাওয়া যাবে।

ভ্যারাইটি দুটোর নাম- পুসা বাসমতী-১৯৭৯ এবং পুসা বাসমতি-১৯৮৫। এই জাতগুলি অ্যাসিটো-ল্যাকটেট সিনথেজ (এএলএস) জিন ধারণ করে আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য উদ্ভিদনাশক ইমাজেথাপির (Imazethapyr) প্রয়োগ করলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হবেনা।

তাছাড়া ধান রোপণ করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয় এবং শ্রমিক খরচও বেশি। যে জমিতে চারা রোপণ করা হয়, সে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি দিতে হয় যা অন্যান্য ফসল চাষের পরিমানের তুলনায় অনেক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চারা রোপণের পর প্রথম তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে গাছগুলি প্রায় ৪-৫ সেন্টিমিটার জলের গভীরতা বজায় রাখার জন্য প্রায় প্রতিদিন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কৃষকরা প্রতি দুই-তিন দিন পর পর চার-পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত পানি দিতে থাকে যতক্ষণ না গাছ ঝোপালো (tillering development) হয়।

আইএআরআই -এর পরিচালক এ কে সিং জানিয়েছেন, “পানি একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদনাশক হলেও অনেকসময় এর ফলে ফসলের বৃদ্ধির সাথে সাথে আগাছাও বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে আগাছা দমনের জন্য বেশি আগাছানাশকের প্রয়োজন হয় যা ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে উদ্ভাবিত নতুন জাত দুটির জন্য সীডবেড, কর্দমাক্ত মাটি, ধানের জমিতে অনেক পানি এবং ট্রান্সপ্লান্টিং এর প্রয়োজন নেই। কৃষকেরা গমের মতো সরাসরি ধান বপন করতে পারবে এতে খরচও কম পড়বে”

নতুন বাসমতি জাতগুলিতে অ্যাসিটো-ল্যাকটেট সিনথেজ (এএলএস) জিন রয়েছে। মূলত ইথাইল মিথেনসালফোনেট, একটি রাসায়নিক মিউট্যান্ট ব্যবহার করে ডিএনএ সিকোয়েন্স পরিবর্তন করে জাতদুটি উদ্ভাবিত করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, অ্যাসিটো-ল্যাকটেট সিনথেজ (এএলএস) এনজাইমে ইমাজেথাইপারের জন্য বন্ডিং- সাইট নেই এবং এতে অ্যামিনো অ্যাসিড সংশ্লেষণও বাধাগ্রস্ত হয় না। উদ্ভাবিত জাতটি আগাছানাশক বা উদ্ভিদনাশক সহ্য করতে পারে তাই ফসলের কোনো ক্ষতি হবেনা। এই উদ্ভাবনটি সম্ভব হয়েছে মিউটেশনের মাধ্যমে, জিএম এর মাধ্যমে নয়, কেননা- এখানে অন্য কোনো জিন নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3