বিমানবন্দরে ১৫ লিটার বুকের দুধ ফেলে দিতে বাধ্য হলেন মা

অন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এক মার্কিন মাকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে তার বুকের দুধ ফেলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। বিমানে যাতায়াতের নিয়মের দোহাই দিয়ে কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে জেসিকা কোয়াকলি মার্টিনেজ নামের ওই নারী এবিষয়ে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, নিরাপত্তার খাতিরে তাকে প্রায় ১৫ লিটার বুকের দুধ ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়।

এই দুধের বেশিরভাগই ছিলো হিমায়িত বা ফ্রোজেন।

চাকুরিজীবী ওই নারীর দুই সন্তান। নানা জায়গা তাকে ভ্রমণ করতে হয়। ফলে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো আর হয়ে ওঠে না। তাই তিনি বাচ্চার জন্য বুকের দুধ সংরক্ষণ করে রাখেন। এবারও তাই করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠার সময় তার কাছ থেকে ওই সংরক্ষিত দুধ কেড়ে নেয়া হয়।

তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা আমার আমার ছেলের প্রায় দু’সপ্তাহের খাবার ফিলে দিয়েছো।’

হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাজ্য সরকারের বিধিমালায় স্পষ্ট করে তরল পদার্থ বহন সংক্রান্ত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে যা সরকারের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

এই নির্দেশনায় বলা আছে, সর্বোচ্চ ১০০ মিলিলিটার পর্যন্ত তরল পদার্থ বহন করা যেতে পারে এবং সেটা নিতে হবে একটি স্বচ্ছ ব্যাগের ভেতরে।

ওয়েবাসইটে বলা হয়েছে, শিশু-খাদ্যের বেলায় এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। তবে ওই শিশু যদি যাত্রীর সঙ্গে থাকে তাহলেই সেটা প্রযোজ্য হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, তবে মূল লাগেজে করে অতিরিক্ত তরল পদার্থ বহন করা যেতে পারে।

এই নারী তার স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন, ‘যদিও ওয়েবসাইটে গিয়ে এই নিয়ম তার জেনে নেওয়া উচিত ছিল, তারপরেও কর্মজীবী একজন মা হিসেবে তিনি মনে করেন এই সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত নয়।’
নিজের কাজের জন্যে প্রায়শ ছেলের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। তিনি লিখেছেন, সেকারণে কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি বুকের দুধ বের করে সন্তানের জন্যে জমিয়ে রাখেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি জানি না এখন আমি কি করবো। কাজে গেলে ছেলেকে খাওয়ানোর জন্যে যথেষ্ট দুধও আমার কাছে আর অবশিষ্ট নেই। কর্মজীবী একজন মা হিসেবে একজন নারীর পক্ষে খুব কঠিন তার সন্তান ও অফিসের চাহিদা একইসাথে পূরণ করা। কিন্তু একটি মাত্র দুপুরের মধ্যেই পুরো বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে’।

‘বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।’

‘আক্ষরিকভাবে বলতে গেলে আমার সন্তানের মুখ থেকে তার খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পেশাজীবী মা হিসেবে আমি নিজেকে খুব অপমানিত আর পরাজিত বোধ করছি।’

তিনি লিখেছেন, তরল দুধ আমি ফেলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে জমে যাওয়া দুধও ফেলে দিতে বলে। কারণ একসময় এটা গলে গিয়ে তরল আকারে রূপ নিতে পারে।

এর আগে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে তরল বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেলে, তরল বহন সংক্রান্ত এ আইন প্রণয়ন করে সরকার।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: