মানবতাবিরোধী অপরাধে চাদের রাষ্ট্রপ্রধানের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আফ্রিকার দেশ চাদের সাবেক সামরিক শাসক হিসেন হাব্রিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সেনেগালের একটি বিশেষ আদালত। তাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, নির্যাতন এবং যৌন দাসত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

১৯৯০ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেনেগালে পালিয়ে যান হিসেন হাব্রি। তার বিচার সম্পন্ন করতে ১৬ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। অবশেষে সোমবার তার বিরুদ্ধে রায় দিল সেনেগালের বিশেষ আদালত।

১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ৭২ বছর বয়স্ক এই সামরিক শাসক মোট ৪০ হাজার লোককে হত্যা করেছিল বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

হাব্রির বিচারে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে বিশেষ আদালত স্থাপন করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সংগঠন আফ্রিকান ইউনিয়ন। গত ১৫ বছর ধরে ভুক্তভোগীদের পক্ষে কাজ করা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আইনজীবী রিড ব্রডি বলেন, ঐতিহাসিক এই মামলাটির রায় অন্য অপরাধীদেরও আইনের আওতায় আনতে উদ্বুদ্ধ করবে।

ব্রডি আরো বলেন, ‘হিসেন হাব্রির বিচারটি প্রমাণ করলো, ‘ভুক্তভোগীদের প্রতিজ্ঞা এবং অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো স্বৈরশাসককে আদালতের মুখোমুখি করা যায়। আমরা আশা করি, অন্যরাও এর থেকে অনুপ্রাণিত হবে।’

রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে হাব্রিকে। বিচার কাজের পুরো সময়জুড়ে আদালতের বৈধতা মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০১৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সেনেগাল সফরের পরই হাব্রিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির সরকার। ১৯৮২ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সহায়তায় ক্ষমতায় আরোহণ করেন হাব্রি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: