চীনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে রমজান হচ্ছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। এই মাসেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকে। কিন্তু চীনে এই প্রথম রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর সরকারি, বেসরকারি, কর্মজীবি ও এমনকি শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত রোজা রাখতে পারবে না বলা হয়েছে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ওয়েবসাইটে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া রোজায় দেশটির মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো বলে অভিহিত করা হয়েছে ওই ওয়েবসাইটটিতে।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নাস্তিক। বিগত কয়েক বছর ধরেই পার্টিটি সরকারি সকল কর্মকর্তা এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মূলত উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত চীনের ঝিনজিয়াং প্রদেশে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। দশ মিলিয়ন মুসলিমের এই প্রদেশে সরকারি নির্দেশে সকল রেস্টুরেস্ট এবং হোটেলকে খোলা রাখতেও বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ধর্মীয় ইস্যুতে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সংঘাত হয়েছে। যদিও এই সংঘাতের জন্য চীনা সরকার উইঘুর সম্প্রদায়কেই দোষি সাব্যস্ত করে তারা চীনের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদের চর্চা করছে বলেও জানায়।

Chinese Muslims3

ঝিনজিয়াংয়ের স্থানীয় ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, ‘রমজান মাসের সময় অবশ্যই খাবার এবং পাণীয়ের ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না।’ উল্লেখ্য যে, চীনে দীর্ঘদিন ধরেই উইঘুর সম্প্রদায় নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখেই জীবনযাপন করে আসছিল। কিন্তু বিগত দশ বছরের কিছু বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট শাসিত সরকার একে একে উইঘুরদের সকল নাগরিক সুবিধা কেড়ে নিতে থাকে এবং উইঘুরদের বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। অবশ্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রকাশ করলেও তাতে চীন সরকারকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

উরুমাকি শহরের উইঘুর মুখপাত্র আহমদজান তোঠি জানান, ‘গত সোমবার কিছু সরকারি লোকজন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এখানে এসেছিল। তারা এই এক মাসে সকল স্কুলের শিক্ষকদের মসজিদে না যাবার জন্য কড়াকড়ি নির্দেশ দিয়ে গিয়েছে।’ রমজানের সময় যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায় সেজন্য উত্তরাঞ্চলীয় শহর আটিলার প্রশাসন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ধর্মীয় ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জানা যায়।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো আবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাজে বাধা দেয়া মোটেই ঠিক হচ্ছে না বর্তমান সরকারের। তারা বলেন ঝিনজিয়াং এ বিশাল এলাকা জুড়ে মুসলাম সংখ্যালঘুদের বসবাস। তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা মোটেও উচিত হয়নি সরকারের। ঝিনজিয়াং এর স্থানীয় সরকারের ওয়েবসাইটে গত সপ্তাহ থেকেই এই আদেশ প্রকাশ করা হয়। সেখানে আরো বলা হয়, রমজান মাসে কোন প্রকার রোজা রাখা যাবে না। এই সময় দলের সদস্যদের কোন প্রকার ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রিয় জিংজিয়াং ওয়েব সাইটে এই নোটিশ টি পোষ্ট করা হয়। সেই সঙ্গে আরো যুক্ত করা হয় এই সময় ব্যবসায়ীদের খাবার এবং পানীয়র দোকান বন্ধ না রাখার কথা বলা হয়। এই সময় খাবারের দোকান বন্ধ রাখলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হবে যা চীনা সরকার কখনোই মেনে নিতে পারে না। এদিকে এরকম ঘোষণাকে ইসলামিক হুমকি বলে করছেন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানরা। তবে সরকার এর ব্যাখ্যা আবার একটু ভিন্নভাবে দিয়েছেন। তাদের মতে যদি চীনে ধর্ম চর্চা হয় তাহলে দেশটিতে নতুন করে আবার ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিষ্ট দল দেশটিতে কোন প্রকার ধর্ম না মানার ঘোষণা দিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •