করোনা কোঠায় চাকরির আহ্বান জানালেন সাবেক অর্থ সচিব!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার থেকে একজনকে চাকরির ব্যবস্থা করতে আহ্বান জানালেন সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ।

মাহবুব আহমেদ মনে করেন, ”সর্বোচ্চ খাত স্বাস্থ্য। এরপর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষি। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তাদের টাকা দেওয়া হলেও খরচ করতে পারে না। সক্ষমতাসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইন করে টাকা খরচের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।”

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শহুরে গরিব মানুষের একটি ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। গ্রামের গরিব মানুষ নানা ধরনের সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু ডেটাবেজ না থাকায় শহরের মুদি দোকানি, পরিবহণ শ্রমিক, হকার ও বস্তিবাসী করোনাকালীন কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না। তাই ডেটাবেজ তৈরি করে শহুরে গরিব মানুষের জন্য নতুন বাজেটে বিশেষ কর্মসূচি চালু করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিতে হবে কৃষি খাতকে। এছাড়া এসএমই খাতকে ক্ষতিপূরণ, ১৮ বছরের ওপরের তরুণ-তরুণীদের টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা এবং সম্মুখযোদ্ধা হিসাবে ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসাকর্মী, সরকারি চাকরিজীবী, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা দরকার।

স্বাস্থ্য খাতে যেসব প্রকল্প আছে, সেখানে পরিচালকদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই। স্বাস্থ্যসহ অনেক খাতের একই অবস্থা। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বহুল আলোচিত শাহেদ এবং সাবরিনাদের মতো কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ভালো কর্মকর্তা এখন স্বাস্থ্য খাতে টাকা ব্যয় করতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে হলে বিশেষ অ্যাক্ট করা জরুরি। যেটি করা হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে। যেখানে ছিল সরকারের ক্রয় নীতিমালা পিপিআর-এর বাইরে যে কোনো কেনাকাটা করা যাবে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। অ্যাক্ট না করা গেলেও ভিন্ন উপায়ে সেটি করা দরকার।

গত বছর করোনার কারণে সারা দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছোট ছোট প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে অর্থ বিভাগ। এ ধরনের ছোট প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ রাখা ঠিক নয়। এর দুটি কারণ। একটি, এসব প্রকল্প থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় হচ্ছে, এসব প্রকল্পের সুবাদে ওই অঞ্চলে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ছে। তবে আমি মনে করি, এই করোনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে অন্তত চাকরি দিতে পারে সরকার। যুগান্তর পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •