প্রোটিনে ভরা শীতের সবজি ব্রোকলি
লাইফস্টাইল ডেস্ক:
দেখতে ফুলকপির মতো। তবে রঙ গাঢ় সবুজ। অনেকে সবুজ ফুলকপি বলেও চেনেন। তবে শীতকালীন এই সবজির নাম ব্রোকলি। এটি থেকে সরাসরি প্রোটিন ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আর বোকলি দামে ফুলকপির থেকে তিন থেকে চারগুণ বেশি।
কৃষিবিদদের মতে, সবজি চাষের মতো স্বাভাবিক কৃষি জমিতে ও বৈরি আবহাওয়াতে ব্রোকলি সহজেই চাষ করা যায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির চেয়ে অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই ফসল।
লাভজনক বাজারদর ও ক্রেতা চাহিদার কারণে রাজশাহী অঞ্চলে ব্রোকলি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে অপ্রচলিত শীতকালীন সবজি হলেও ধীরে ধীরে এর কদর বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী।
তিনি বলেন, “ক্রেতার চাহিদা ও বাজার মূল্যের কারণে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা ব্রোকলি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে সবুজ ফুলকপি নামে পরিচিত ব্রোকলি চাষের উপযোগী এই অঞ্চল। ব্রোকলি ক্রমাম্বয়ে শহুরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রান্ড হোটেলসহ বিভিন্ন চীনা রেস্টুরেন্টে খাদ্যের চাহিদা সৃষ্টি করতে স্যুপসহ অন্যান্য সুস্বাদু খাবারে ব্রোকলি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বরেন্দ্র বগুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক (কৃষি) এটিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ফসল গ্রামাঞ্চলের কৃষক ও ভোক্তাদের কাছে অপরিচিত ছিল।
রফিকুল ইসলাম কৃষকদের অনুপ্রাণিত করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ব্রোকলি চাষ পদ্ধতি ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের অনুরুপ। প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ব্রোকলি গাছ উৎপাদিত হতে পারে।
তিনি বলেন, উৎপাদক পর্যায়ে ব্রোকলি চাষ জনপ্রিয় করে তুলতে কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ডিএই এই ফসলের প্রজেকশন প্লট বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের এগিয়ে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করছে।

