নাটোরে ৩০০ কোটি টাকার গরু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোটাতাজাকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশীয় স্বাভাবিক খাবার খাইয়ে নাটোরে চলছে দেশি গরু মোটাতাজা করার কাজ। এ বছর ৩০০ কোটি টাকার প্রায় ৩৬ হাজার গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে নাটোরের খামারগুলোয়। তবে স্বাভাবিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হলেও ভারত থেকে গরু আসার কারণে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। এদিকে অবৈধ উপায়ে কেউ যাতে গরু মোটাতাজা করতে না পারে সেজন্য খামারগুলোতে বিশেষ নজরদারি রেখেছে প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, সামনে কোরবানি ঈদ তাই নিজেদের পালিত গরুর প্রতি বিশেষ আদর-যত্ন চলছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হামলাইকোল, গারিসাপাড়া, খামারনাচকৈড়, ধারাবারিষা, চাঁচকৈর হাট, বামনগাড়াসহ এলাকার প্রতিটি খামারে। ওইসব এলাকায় অন্তত ৫৫ থেকে ৬০টি খামারে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করা হয়।

সরেজমিনে কয়েকটি খামারে গিযে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে স্বাভাবিক খাদ্য খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া চলছে। এখানকার খামারিরা ঈদের একবছর আগে দেশীয় জাতের গরু ক্রয় করেন। এরপর দেশীয় খাবার খড়, ভূষি, ভাত খাইয়ে মোটাতাজা করা হয় বলে জানান খামারিরা। কিন্তু খাবারের মূল্য বৃদ্ধি আর প্রাণী সম্পদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন খামারির মালিকরা।

গুরুদাসপুর উপজেলার কালাকান্দার গ্রামের আলমগীর হোসেন ও আজিমুদিন শেখ মইনুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন খামার মালিক জানান, প্রতিবছর কোরবানি ঈদের এক থেকে দেড় মাস পর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে জাতের গরু কিনে আনেন। তারা এসব গরুকে খৈল, ভুসি, খুদের ভাত, খড় ও সবুজ ঘাস খাইয়ে এবং পরিচর্যা করে মোটাতাজা করে তোলেন। এরপর খামার মালিকরা কোরবানির ঈদের আগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গরুগুলো বিক্রি করেন। এ ছাড়া অনেকের খামারে ক্রেতা বা পাইকাররা এসে গরু কিনে নিয়ে যান। এতে তারা বেশ লাভবান হন।

তারা আরও জানান, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কোনো ওষুধ গরু মোটাতাজাকরণে তারা ব্যবহার করেন না।

উপজেলার চাঁচকৈর মধ্যপাড়া খামারি আলমগীর হোসেন জানান, তারা গরুগুলোকে গমের ভুসি, খুদের ভাত, খড়, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন খাদ্য খাওয়ান। এ ছাড়া গরুর বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যা করে থাকেন। খামারগুলো হওয়ার কারণে তাদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

নাটোর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, জেলাজুড়ে স্থানীয় প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্বাবধান ও পরামর্শে বেশ কয়েক বছর ধরে দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণের কাজ চলছে। ট্যাবলেট দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে বিগত কয়েক বছর ধরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে জেলায় স্বাভাবিক খাদ্যে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।

আলতাফ হোসেন আরও জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নাটোর জেলার ৭টি উপজেলায় প্রতিবছর খামারিরা প্রচুর গরু মোটাতাজা করে থাকে। এতে প্রায় ২০ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়। এবছর এ জেলা থেকে প্রায় ৩৬ হাজার গরু কোরবানির ঈদে বিক্রি হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় তিনশত কোটি টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: