খুলনায় শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ
খুলনা সংবাদদাতা:
ব্যক্তি পর্যায়ে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় কুমির চাষ শুরু হতে যাচ্ছে। বিরল ও ঝুঁকিপূর্ণ এ কুমির চাষে যেমন কয়েকশ’ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি বিশ্ববাজারে কুমির রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বটিয়াঘাটা উপজেলা মত্স্য বিভাগের সহযোগিতায় এবং সাউথ বাংলা রিপটাইলৃস ফার্ম লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের রায়পুর এলাকায় ২৫ একর জমির উপর উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
কুমির চাষ একটি বিরল, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। দেশে সর্ব প্রথম কুমির চাষ শুরু হয় সুন্দরবনের করমজল এলাকায়। যা সম্পূর্ণরূপে সরকারি তত্ত্বাবধায়নে করা হয়েছিল। প্রকল্পটি শুরুতে বেশ সাড়া ফেললেও শেষমেষ আর আলোর মুখ দেখতে পায়নি। এরপর কুমির চাষ প্রকল্পে ব্যক্তি পর্যায়ে এগিয়ে আসে টাঙ্গাইলের গুহাপুর এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান। নানা জটিলতায় সে প্রকল্পটির তেমন অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি রপ্তানিযোগ্য ও বিলুপ্তপ্রায় এই কুমির চাষকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি পর্যায়ে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের রায়পুর এলাকায় সাউথ বাংলা রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ২৫ একর জমির উপর বিশাল খাল খনন, খাঁচা ও বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কুমিরের খাদ্য হিসাবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী স্থানে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল ভেটকি মাছ ও মুরগি পালনের স্থান।
কুমির চাষ অত্যন্ত লাভজনক। আন্তর্জাতিক বাজারে কুমিরের মাংস প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ ডলার। তাছাড়া কুমিরের নখ, দাঁত, চামড়া ও হাড়সহ দেহের প্রায় প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত দামি। কুমিরের হাড় দিয়ে বিলাসবহুল পারফিউম ও গহনা তৈরি হয়ে থাকে। এছাড়া চামড়া, দাঁত, নখ ও অন্যান্য হাড় দিয়ে দামি জুতা, লেডিস ব্যাগ ও বেল্টসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী তৈরি হয়। কুমিরের মাংস ও তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি সকল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ চাহিদাপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক। একটি বাচ্চা কুমির কিনতে কোরিয়ান বাজারে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ পড়ে। প্রথমদিকে ৫০টির মতো মা কুমির কোরিয়া থেকে এনে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, দেশের জীব বৈচিত্র্য রক্ষাসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ও রপ্তানির খাতে এগিয়ে যাবে প্রকল্পটি।
প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোমনাথ দে জানান, কুমির চাষের অপার সম্ভাবনা ও বিশ্ববাজারে এর চাহিদা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ বিনিয়োগ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকার এ বিনিয়োগে সহযোগিতার হাত বাড়ালে অবশ্যই এখানে সফলতা আসবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের উত্পাদিত শতকরা বিশ ভাগ কুমিরের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন স্থানের উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দিয়ে বিলুপ্তির হাত থেকে কুমিরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ব্যক্তি পর্যায়ে কুমির চাষে কেউ এগিয়ে আসলে নিয়মের আওতায় সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন তা করা হবে।

