নদীগর্ভে বিলীন গাইবান্ধার ৬০০ পরিবারের বসতভিটা

মো. জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী এলাকার বানভাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নদী ভাঙন এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী ৬০০ পরিবার বসতবাড়ি ও জমাজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পানি কমার সঙ্গে গত ৩-৪ দিনে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কামারজানি বন্দর, গো-ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে কামারজানি বন্দর এলাকার ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া অনেক পরিবার পৈত্রিক ভিটা থেকে তাদের বসতবাড়ি ভেঙে নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে, ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে কামারজানি বন্দর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে গঙ্গা পূজা সম্পন্ন করে। এছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ তাদের বসতবাড়ী সড়িয়ে নৌকা যোগে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বন্যানিয়ন্ত্র বাঁধ ও উচু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে এক সপ্তাহে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কুচখালি, চন্দনস্বর, পশ্চিম খাটিয়ামারি, উত্তর খাটিয়ামারি গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে। এসব এলাকায় এখনও তীব্র নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে মুখে রয়েছে আরও দুই শতাধিক বসতবাড়ি।

ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,‘ ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৫০০ বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া আরও দুই শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙন কবলিত এসব পরিবারের লোকজন উচু জায়গা ও বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে’।

অপরদিকে, সাঘাটা উপজেলার বরমতাইড়, গোবিন্দী, হলদিয়ার গোবিন্দপুর, কানাইপাড়া, ভরতখালি, ফুলছড়ির দেলুয়াবাড়ি, উড়িয়ার কালাসোনা, রতনপুর, দক্ষিণ কাবিলপুর, কঞ্চিপাড়ার পূর্ব কঞ্চিপাড়া, এরেন্ডাবাড়ির জিগাবাড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ এবং সদর উপজেলার কামারজানি, গিদারি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার শতশত বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে রয়েছে।

তবে ভাঙন কবলিত এসব এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ধর্না দিয়ে কোন কাজ হয়নি। প্রতি বছর এভাবে নদী ভাঙনে হাজার হাজার বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে নির্বিকার। সঠিক সময়ে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলে শতশত বসতবাড়ি আর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হতো না।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, ভাঙন কবলিত কিছু এলাকার কাজ চলছে। সব এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে উপরের নির্দেশ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: