সোলায়মান আলীর কাছে সর্বরোগের মহৌষধ মেলে!
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
পেট ব্যাথা, কোমর ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, বাতের ব্যাথা, একশিরা, গলা ফুলা, কান ফুলা, আমাশায়, গ্যাষ্টিক, পাইলস রোগসহ নারী-পুরুষের নানা যৌন সমস্যা ও ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্ড ও প্যারালাইসিস রোগের মহৌষধ।
এ ঔষধ বিফলে যাবেনা। এক ফাইলে যথেষ্ট। এ ঔষধের কোন ক্ষতিকর দিক নেই। তাই আসুন এক ফাইল ব্যবহার করে দেখুন রোগ ভালো হয় কি না? এভাবে ছড়ার মতো করে রাস্তার ধারে, হাট-বাজার ও বিভিন্ন অলি-গলিতে বসে নানা কথা আর চিল্লাচিল্লি করে সর্বরোগের ঔষধ বিক্রি করেন সোলায়মান আলী।
শুধু তাই নয়, নিজেকে চিকিৎসক দাবী করে সোলায়মান আলী মানব দেহের পাশাপাশি পশু প্রাণীরও নানা রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। তার ঔষধে হাজার-হাজার মানুষের জটিল-কঠিন রোগসহ নানা ধরণের রোগ ভালো হয়েছে।
চিকিৎসক সোলায়মান আলীর নেই কোনো সনদপত্র বা স্থায়ী চেম্বার এমনকি স্থায়ী ঠিকানা। যাযাবর চিকিৎসক সোলায়মান আলী কখনো রাস্তার ধারে, কখনো হাট-বাজারের ফুটপাতে আবার কখনো বিভিন্ন অলি-গলিতে বসে গলা ছাড়িয়ে চিল্লচিল্লি আর লোভনিয় লেকছারে মিনিটের মধ্যে সর্ব রোগের ঔষধ তৈরী করে চড়া দামে বিক্রি করছেন রোগীদের কাছে।
এভাবে সোলায়মান আলীর কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন শতশত সাধারণ মানুষ। এছাড়া এসব ঔষধে সেবন ও ব্যবহারে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও জটিল-কঠিন রোগের দিকে ধাবিত হচ্ছেন গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ।
সোলায়মান আলীর (৫২) বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আমবাগান গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। এই লেখাপড়া শিখেই তিনি নিজেকে একজন চিকিৎসক বলে দাবী করেন। সোলায়মান আলী দেখতে প্রায় জঙ্গী বেশভুশের মতো। মুখে দাঁড়ি আর মেয়েদের মতো লম্বা মাথার চুল বেশ জটা ধরা। আবার ঔষধ বিক্রির সময় তিনি খালি গায়ে থাকতে পছন্দ করেন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ক্লাবের সামনে দেখা মেলে সোলায়মান আলীর কয়েদিন ধরে তিনি টেবিলের উপর ছোট ছোট কাঁচের বোতল, পানির বোতল, বিভিন্ন গাছের লতাপাতা, গাছের বাকল, কালিজিরা, শুকনা হাড়-হাড্ডিসহ বিভিন্ন কিট পতঙ্গের পসরা সাজিয়েছেন। টেবিলের উপর রাখা কড়াইয়ে এসব গাছের লতাপাটা, কিট পতঙ্গ আগুনে জ্বাল দিয়ে তৈরী করছেন সর্ব রোগের মহৌষধ। অনেক চিল্লাচিল্লির পর গ্রাম-গঞ্জের সহজ সরল মানুষ রোগ ভালোর আশায় নানা রোগের ঔষধ ক্রয় করছেন।
সোলায়মান আলী জানান, গাছের লতাপাতা, কিট পতঙ্গ, হাত-হাড্ডিসহ ১৮৪ প্রকার জিনিস দিয়ে ঔষধ তৈরী করেন। তার ঔষুধ বিফলে যাবেনা। তার ঔষধে মানবদেহের জটিল-কঠিন রোগসহ শতাধিক রোগ ভালো হয়। তবে চিকিৎসার বিষয়ে তিনি কোথাও কোন প্রশিক্ষণ নেননি। তার দাদা ও পিতা এভাবে চিকিৎসা করেছেন। তাদের ধারাবাহিকতায় তিনি চিকিৎসক। তিনি মারা গেলে তারা ছেলে এই পেশায় আসবে। তাই এখন থেকেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাট-বাজারে ঘোড়েন।
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘চিকিসা বিজ্ঞানে সোয়ালমান আলীদের কোন অস্তীত্ব নেই। কিন্তু তার পরেও তারা দিনের পর দিন চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণ করে যাচ্ছে। তাদের ঔধুষে রোগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মানুষ সচেতন না হওয়ায় এসব ভন্ডরা স্থান পেয়েছে’।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, কেউ অভিযোগ না করায় এসব হাতুরে চিকিৎসকের দৌড়াত্ব বেড়েছে। এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আহ্সান হাবিব জানান, অচিরেই এসব হাতুড়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হবে।

