বিচার বিভাগে ধীরগতির কারণ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ -প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তিনি বলেন, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিমাণের ব্যবধান বিচারকদের শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

বিচার বিভাগ পৃথকের ৯ম বর্ষপূর্তিতে দেওয়া এক বাণীতে আজ সোমবার এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আপিল বিভাগে মাজদার হোসেন মামলার ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগ পৃথক হয়ে এর যাত্রা শুরু করে।

প্রধান বিচারপতি এ উপলক্ষে দেওয়া তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদটি পুনঃপ্রবর্তন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর উক্ত বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে। অপরদিকে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। ১১৬ অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিমকোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্যপদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারকাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচার প্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধানটি পুনঃপ্রর্তন করলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সমুন্নত ও সংহত হবে এবং বিচার বিভাগের সার্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বিধানটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দ্বায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিমকোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানের এ বিধানটি পুনঃপ্রবর্তন হওয়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।

পাচঁ পৃষ্ঠায় দেওয়া এ বাণীতে বর্তমান বিচার বিভাগের অবস্থা, গৃহিত পদক্ষেপ, নানা সীমাবদ্ধতা, মামলা নিস্পত্তির হারসহ তার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতার উপর একটি দেশের মানদণ্ড নির্ধারিত হয়। দেশের সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা।

তিনি বলেন, তীব্র অবকাঠামোগত সমস্যা, জনবল সংকট ও প্রতিকূলতা থাকা স্বত্বেও দ্রুত ও গুনগত বিচার নিষ্পত্তি নিশ্চিতে বিচারকরা কাজ করছে। মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ছে। ফলে বিচার বিভাগের ওপর জনগনের আস্থা বাড়ছে। বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হলে বিচার বিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের আদালত সমূহে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার তথা ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

দেশের সব আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন-প্রোগ্রামের সহযোগিতায় নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ফলে অচিরেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতির রোল মডেল। যা বিশ্ব ব্যাংক তথা আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। ২০২০ সালের আগেই কাঙ্ক্ষিত দুই অংকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছাতে হলে আরও বিদেশি বিনোয়োগ প্রয়োজন। একটি দেশের বিচার বিভাগের দক্ষতা এবং দ্রুত বিচারের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োকারীরা আকৃষ্ট হয়। ফলে সর্বোচ্চ সততা, দক্ষতা, দ্রুততা ও নিরপেক্ষতার সাথে বিচার প্রদানে সক্ষম এরূপ বিচার বিভাগ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: