তানোরে বিয়ে করতে এসে বর শ্রীঘরে
মিজানুর রহমান, তানোর সংবাদদাতা:
রাজশাহীর তানোরে নাবালিকা বিয়ে করতে গিয়ে ছিলেন ১৭ বছর বয়সী নাবালক বর ইমন আলী । কিন্তু বিধিবাম। বিয়ের বদলে ৭ দিনের কারাদন্ড নিয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে ইমন আলীকে। একই সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করায় কনের মা রাহেমা মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিবেনা বলে মুচলেকা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় , গতকাল শুক্রবার সকাল ১২ টায় উপজেলার সরনজই কাজীপাড়া গ্রামের মৃত মুন্তাজ আলীর নাবালিকা কন্যা সোনিয়ার (১৫) সাথে গোদাগাড়ী থানার কাশিমপুর বুঝেরঘাট এলাকার খাইরুল ইসলামের নাবালক পুত্র ইমন আলীর (১৭) পারিবারিক সিধান্ত মতে বিয়ের আসর বসে ৷ বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঞা ,তানোর থানার এ,এস,আই ওয়াজেদুর রহমান ও সংগীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন৷
এ সময় কাজী,বর এবং কনের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরা পালিয়ে যান। ওই নাবালিকা কন্যা ইউএনওকে জানায়, তার অমতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সে এখনই বিয়ে করতে চায় না, পড়াশোনা করতে চায় । এরপর আদালত কথিত ও চুক্তিবদ্ধ বর ইমন আলীকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৯২৯ এর ৫ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে ৭ ( সাত) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং বিয়ের আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করায় কনের মা রাহেমাকে বাল্যবিবাহ না দিতে মুচলেকা নেওয়া হয় । ইমন আলীকে আজ শুক্রবার সকালে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তানোরের ইউএনও মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঞা বলেন, ওই ছাত্রী পড়তে চাইলে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। স্থানীয় এনজিও কর্মী,ইউপি চেয়ারম্যান,স্কুল কমিটি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ অন্যদের তার খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে।
মেয়ের মা রাহেমা বেগম বলেন, ‘অল্প বয়েসে বিয়া দেওয়া দোষ, জানলে মেয়ের বিয়া ঠিক করতাম না। ও পড়তে চায়, ওকে পড়ামু। আর বিয়া দিমু না।’

