শত বছরের পুরোনো রাস্তা দখল করে খানকা শরীফের পিলার নির্মাণ, লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ

ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার পুঠিমারী বাজারে জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি খানকা শরীফের নামে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। এতে চলাচলের রাস্তা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অত্র অঞ্চলের ২০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক জনগণসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের দূর্গম পল্লী পুঠিমারী গ্রামের গোদাই নদীর পাড়ে একটি ছোট্র বাজারের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে সেখানে একটি স্থানীয় হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও খানকা শরীফকে কেন্দ্র করে উক্ত বাজার সহ অত্র অঞ্চল জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রতিদিন সকাল থেকেই ওই হাটে অত্র চলনবিল অঞ্চলের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার লোকের সমাগমও ঘটে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ওই বাজারে আসা-যাওয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় “হযরত ইমাম সৈয়দ আবুল খায়ের মোহাম্মদ শহীদ শাহ্ ওয়ারেছী” খানকা শরীফের পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। এতে অত্র অঞ্চলের খাগোরবাড়ি, নলবাতা, দিয়ারপাড়া, মঠগ্রাম, চৌমুনী, নিয়োগপাড়া, পরানপুর, হাতিয়ান্দহ, মাঝগাতী, পুঠিমারী ২০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক জনগণ রাস্তা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পুঠিমারী গোদাই নদী দখল করেও ওই খানকা শরীফের বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে চলে অত্র অঞ্চলের ভোট ব্যবসা।
পুঠিমারী বাজার কমিটির চেয়ারম্যান আশকান মোল্লা ও গ্রাম প্রধান মোতালেব আলী জানান, এই রাস্তার মাঝে পাকা পিলার নির্মাণে অত্র অঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক জনগণকে বিপাকে পড়তে হয়েছে। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য খানকা শরীফের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ৯নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাহার কসাই খানকা শরীফের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, যদি খানকা শরীফ কাউকে জায়গা না দেয় তবে কার বা কি করার আছে? আর সাংবাদিকরা এসেই বা কি করবে?

এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবীব রুবেল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে সকলের সমন্বয়ে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: