গ্রেড বৈষম্যের প্রতিবাদে ‘ব্রি’ ও ‘বারি’র বিজ্ঞানীদের কর্মবিরতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে বিজ্ঞানীদের চাকুরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডারদের সাথে বিজ্ঞানীদের গ্রেড বৈষম্যের প্রতিবাদে আজ থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট(বারি)-এর বিজ্ঞানীরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (২৭ ডিসেম্বর) দুপর ১২.০০ টা থেকে ১.০০ টা পর্যন্ত ব্রি ও বারি‘র মহাপরিচালকের অফিসের সামনে অবস্থান নেন বিজ্ঞানীরা। আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত উক্ত কর্মসূচী চলবে।
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির দেশ ব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির সাথে সমন্বয়করে ব্রি ও বারি‘র বিজ্ঞানী সমিতি উক্ত কর্মসূচী পালন করে আসছেন।
বিজ্ঞানীদের কর্মবিরতি কর্মসূচিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বারি বিজ্ঞানী সমিতির আহ্বায়ক ডঃ সৈয়দ নুরুল আলম, সদস্য সচিব মোঃ মুজিবুর রাহমান, মদন গপাল সাহা, ব্রি’র মহাপরিচালক ডঃ জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ডঃ মোঃ আনছার আলী, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন গাজীপুরের সভাপতি ডঃ কে পি হালদার ও সিরাজুল ইসলামসহ প্রমুখ।বক্তারা বলেন, ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে গবেষণা পেষাটাকে সম্পূর্ণভাবে অবমাননা করা হয়েছে। চাকুরীতে যোগদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টিকরে বিসিএস ক্যাডারদের ৮ম গ্রেড এবং বিজ্ঞানীদের ৯ম গ্রেড দিয়ে মর্যাদাহানি করায় মেধাবীরা ভবিষ্যতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মেধাবীরা আর আসবেনা। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাশূন্য হয়ে যাবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরবে। তাই অনতিবিলম্বে বিজ্ঞানী পদে চাকুরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যমূলক বাবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিজ্ঞানীদের চাকুরী ৮ম গ্রেড দিয়ে শুরুর জোর দাবী তুলেন বক্তারা। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোসহ প্রশাসন ক্যাডারের ন্যায় সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতি পদ্ধতি চালুরও দাবী জানান।
গ্রেড বৈষম্যমুলক ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল বিরোধী লিয়াজো কমিটির অন্যতম সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান মিলন জানান, দেশের জন্য বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা চিন্তা করলে বিজ্ঞানীদের চাকুরী ৭ম গ্রেড দিয়েই শুরু হওয়ার কথা।কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন স্বাধীনতার পর পরেই চাকুরীতে যোগদানের সময় বিজ্ঞানীদের বেতন ছিল ৪৫০ টাকা তখন বিসিএস ক্যাডারদের বেতন ছিল ৩৭৫ টাকা। অথচ বিগত চার দশকে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও প্রযুক্তি মাধ্যমে দেশ অবিরাম খাদ্য ঘাটতি থেকে আজ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিনত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বেতন অন্যদের থেকে এক গ্রেড উপরে হওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে বিজ্ঞানীদের বেতন এক গ্রেড নিচে নামানো হয়েছে। এই ধরনের অবমাননা বিজ্ঞানীরা কখনেই মানবেনা।
উল্লেখ্য যে ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই আন্দোলনে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০ ডিসেম্বর থেকে কালো ব্যাচ পড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে রয়েছেন তারা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়সহ সকল আঞ্চলিক ও উপ-কেন্দ্রগুলোতে কর্মসূচি পালন করবেন বিজ্ঞানীরা।গত ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে সময় মানা না হলে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন বলে উল্লেখ করেন বিজ্ঞানীরা।

