গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুই ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষে ৯ জন আহত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট, টিয়ার সেল ও ৯ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এছাড়া ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আকতার হোসেন জুয়েল।

গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও শামিম এন্ড শাকিল কারিগরি কলেজ কেন্দ্রের বাহিরে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের মধ্যে বারব আলী, আবদুল করিম, আনিছুর জামান বিদুৎ ও লুৎফর রহমানকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পারভেজ, সাদ্দাম, মানিক ,নজরুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাককে আশংকাজনক অবস্থায় বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শামিম এন্ড শাকিল কারিগরি কলেজ কেন্দ্রের বাহিরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাউন্সিলর মাসুদ রানা বাপ্পী ও শহিদুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। পরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েলে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হন। পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

অপরদিকে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্রের গেটের বাইরে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুল হক প্রধান, জাকারিয়া ইসলাম সাজু ও শাহীন আকন্দের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে শর্টগানের ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও ৯ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোঁড়া হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার (পুরুষ কেন্দ্র) আনিছুল হক ও রফিকুল ইসলাম (মহিলা কেন্দ্র) জানান, ভোট কেন্দ্রের বাহিরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাই সংঘর্ষের ভোট কেন্দ্রে কোন সমস্যা না থাকায় ভোট গ্রহণ নির্বিঘেœ চলছে।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতষ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভোটাররা ভোট না দিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ফলে ভোট এ ভোট কেন্দ্রে ৫-৭ মিনিটি ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

শামিম এন্ড শাকিল কারিগরি কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জানান, কিছু সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকলে পরে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখন ভোটাররা তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমানের কর্মীরা অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মেরে নেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সাথে সাথে আমার স্ত্রী মঞ্জুরী মোর্শেদা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, নৌকার বিজয়ের সম্ভাবনা দেখে বিএনপি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এছাড়া সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন ওয়ার্কার্স পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মতিন মোল্লা। তিনি অভিযোগ করেন, আমি কেন্দ্রে আসলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা আমাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। তারা আমাকে লাঞ্ছিত করে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। অভিযোগটি মনগড়া।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আকতার হোসেন জুয়েল বলেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ১, ৯ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে অনিয়মের মাধ্যমে সরকার দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ভোট কারচুপি করে নৌকা মার্কায় ব্যালটে সিল মারছেন। বিষয়টি বারবার নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই এই প্রহসনের নির্বাচন থেকে আমি প্রত্যাহার করেছি।

অন্যদিকে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা নেয়া হলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ভোট গ্রহণ দুপুর পৌনে ২টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত আধা ঘন্টা বন্ধ থাকে। পরে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় শান্তিপুর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাতটা থেকে শীত উপেক্ষা করে ভোটাররা কেন্দ্রে ভীড় জমাতে থাকে।

পৌরসভা নির্বাচনে গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামছুল আজম বলেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপুর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •