বাংলাদেশে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: আতঙ্কে ৩ জনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সোমবার ভোর, হঠাৎ কেঁপে উঠে বাংলাদেশ। ভূমিকম্প ভূমিকম্প, ঘুম থেকে জেগে বেরিয়ে পড়েছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দমিক ৮।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ইম্ফল থেকে ৩৩ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম এবং ঢাকা থেকে ৩৫১ কিলোমিটার পূর্ব উত্তরেপূর্বে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়। উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে একজন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আতিকুর রহমান (২৩)। তার বাড়ি জুরাইন এলাকায়। প্রতিবেশী রহমানের ভাষ্য, ভূমিকম্পের সময় প্রায় ১০-১২ জন একসঙ্গে দোতলা থেকে হুড়োহুড়ি করতে নামেন। এ সময় আতিকুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে রাজধানী ঢাকায় বাসা থেকে নামতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আতিকুর রহমান (২২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আতিকুর রহমান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পূর্ব জুরাইনের ৯৫৬ নম্বর বাসার একটি মেসে তিনি ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুরে। বাবার নাম মঈন উদ্দিন।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে রাজধানীতে কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আর বেশ কয়েকজন ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ইকবাল হোসেন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভূমিকম্পে লালমনিরহাটে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পের সময় ঘুম থেকে উঠে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আতঙ্কে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ী এলাকার নূর ইসলাম কদু (৫০) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী মারা যান।
পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহ জামাল বলেন, ঘোনাবাড়ী এলাকার মুদি ব্যবসায়ী নূর ইসলাম কদু ভূমিকম্পনের সময় ঘুম থেকে উঠে আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় মাথা চক্কর দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া, রাজশাহীতে ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের প্রধান বাবুর্চি খলিলুর রহমান (৬৫) ভূমিকম্পে আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

