তানোরে ৪০ দিনের কর্মসূচীতে, কর্ম ছাড়াই উঠছে টাকা
তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা :
কাগজ- কলমে নাম কর্মসৃজন ও কর্মসূচি প্রকল্প। কিন্তু কেউ কর্ম করে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করছেন না। প্রকল্পটির সংশ্লিষ্টরা কাগজে নাম দেখিয়ে অর্থ ভাগাভাগি করছেন। এতে করে সরকারের মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থে ৩৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
এরমধ্যে কলমা ইউপি’তে ৬টি প্রকল্প, সরনজাই ইউপি’তে ৩টি প্রকল্প, তালন্দ ইউপি’তে ৩টি প্রকল্প, পাঁচন্দর ইউপি’তে ৬টি প্রকল্প, চাঁন্দুড়িয়া ইউপি’তে ৩টি প্রকল্প, বাধাইড় ইউপি’তে ৬টি প্রকল্প ও কামারগাঁ ইউপি’তে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ৯৫২ জন লেবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এপ্রকল্পের কাজ বিগত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করা হয়।
প্রতিটি প্রকল্প সরেজামিন গিয়ে দেখা যায়, একেকটি প্রকল্পে প্রতিদিন ২৮ জন লেবার কাজ করার কথা। কিন্তু হাতেগুনা ৫ থেকে উর্ধ্বে ১০ জন লেবার এসব প্রকল্পের কাজ করছেন। বাকী লেবারগুলো প্রকল্প সভাপতির আস্তাভাজন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত নাম। আর এসব নামের তালিকা প্রস্তুত করে প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করছেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা।
এসব প্রকল্পে ব্যবহৃত নামের মধ্যে রয়েছে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দ্যোক্তা আবদুল মান্নান। তিনি ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে কোন কাজ করছেন না। অথচ তার নামে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু তিনি নন তার শত শত ভুয়া লেবারের নাম ব্যবহার করে কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করছেন প্রকল্পের সভাপতিরা।
এনিয়ে কলমা ইউনিয়নের নারী মেম্বার ও কর্মসৃজন প্রকল্পের সভাপতি ফাতেমা বেগম জানান, পরিষদের উদ্দ্যোক্তা সরকারী কোন বেতন পান না বলে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, কর্মসৃজন প্রকল্পে শুধু তিনি নন সব প্রকল্পে নয় ছয় হয় বলে দাবী করেন তিনি।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জেসমিন সুরায়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, যেসব প্রকল্পে লেবাররা সময়ের আগে কিংবা উপস্থিত থাকেন না তাদেরকে ভাতা দেওয়া কোনমতেই উচিত নয়। কিন্তু কিছুটা এলাকায় দলীয় প্রভাবে এমনটি হয়ে থাকলেও কিছু করার থাকে না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

