৯৬৩ কেজির মধ্যে মাত্র ৩ কেজি স্বর্ণতে ভেজাল: অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত ৯৬৩ কেজি স্বর্ণের মধ্যে ‘মাত্র ৩ কেজি স্বর্ণতে ভেজাল রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
২৪ জুলাই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সমস্যা নেই এবং ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত স্বর্ণ নিয়ে ওঠা অভিযোগও অনর্থক।’
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। পরিদর্শন দল প্রতিটি রসিদের অনুকূলে ভল্টে জমা হওয়া স্বর্ণ যাচাই করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ সোনা বিশুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করলেও পরীক্ষায় তা অন্য ধাতুর মিশ্রণে তৈরি বলে ধরা পড়ে।
২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ একটি স্বর্ণের চাকতি এবং সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। গ্রহণের সময় ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) স্বর্ণ পায়। এতে সরকারের এক কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে করা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় নির্বাচনের পরিবেশ বেশ গরম হয়ে উঠেছিল। তবে এবার এখন পর্যন্ত কোনো উত্তাপের খবর নেই। সবকিছু স্বাভাবিকই রয়েছে।’
ডিসিদের সঙ্গে বৈঠককালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে অর্থ ব্যয় করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ। সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে বরাদ্দকৃত অর্থ উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জুলাই থেকে অর্থছাড় করতে পারবে প্রকল্প পরিচালক।’
এসবের আলোকে ডিসিদের উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে ডিসিরা নিজেদের আবাসিক ও কার্যালয় ভবনের সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতগুলো ভবন এক সঙ্গে সংস্কার করা যায় না। আমরা প্রত্যেক বছরই করছি। এটার সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে।

