যমুনায় তলিয়ে গেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন

নিউজ ডেস্কঃ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যমুনা নদীতে তলিয়ে গেছে ‘পাইকশা মাইঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি স্কুলের ভবন। তবে স্কুল বন্ধ থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলটি উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই যমুনার ভাঙন চলছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। বর্তমানে বর্ষায় নদীতে নতুন জোয়ারে নদী ভাঙতে ভাঙতে শনিবার গভীর রাতে ভবনটির খুব কাছে চলে আসে। বিদ্যালয়টি ধ্বসে গিয়ে একাশং যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এদিকে স্কুল নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবরে শিশু শিক্ষার্থীরা কষ্টের অনুভূতি ব্যক্ত করেছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ওই বিদ্যালয়ে প্রায় দশ গ্রামের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার জন্য আসতো। তাদের অভিযোগ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ জেলা ও উপজেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্কুলটি পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে বার বার আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু ব্যবস্থা নেননি কেউ। ফলে অবিরাম ভাঙনের মুখোমুখি হচ্ছে এলাকাবাসী।

নদী পাড়ের বিপ্লব হোসেন নামের এক যুবক জানান, চোখের সামনেই বিকট শব্দে ধ্বসে গেল বিদ্যালয়টি। কয়েক বছর ধরে এ যমুনা নদীর গ্রাসে গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, মসজিদ ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুই বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি। তবে আমাদের দাবি, এ এলাকার নদীপাড়ের মানুষ গুলো যাতে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা “এ+” পেয়ে থাকে। যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী আছে। ভাঙনের কবলে ভবনটি ঝুঁকিতে ছিল। বিদ্যালয়ের ভেতরের মালামাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: