২ লাখ মানুষ পানিবন্দি জামালপুরে

নিউজ ডেস্কঃ

বুধবার (০১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মাদারগঞ্জ ১, ইসলামপুরে ২ ও দেওয়ানগঞ্জে একজনসহ জেলায় মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান  জানান, বিকেল ৩টার দিকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় ২০ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে। এ এলাকায় পানির স্বাভাবিক স্তর ১৯ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার।

এদিকে, জামালপুরের সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিই বন্যা কবলিত। এসব উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়ন এবং পাঁচটি পৌরসভার আংশিক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার। এই উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশই পানির নিচে। কাঁচা-পাকা বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম  জানান, পাট, আমনের বীজতলা, আউস ধান, সবজিসহ অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস  জানান, জেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ৮০টি মেডিক্যাল দিল গঠন করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী  জানান, জেলার ১০টি আশ্রয় কেন্দ্র মোট ৩০৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: