করোনা ভাইরাসের কারনে ম্যালেরিয়া শনাক্ত কম

নিউজ ডেস্কঃ

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের কারণে ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাতে রোগী শনাক্ত কম হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, কোভিড পরিস্থিতি শুরুর পর ম্যালেরিয়াতে শতকরা ৪০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু বাড়তে পারে। সে তথ্যের সত্যতা দেশেও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদফতরে অ্যাডভোকেসি মিটিং অন ম্যালেরিয়া অ্যান্ড ডেঙ্গু নামক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরসিদ আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এবং অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আফসানা আলমগীর খান। দেশের ১৩টি জেলার ৭২ উপজেলায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চলছে বলে জানানো হয়। তবে এই ১৩টি জেলার মধ্যে শতকরা ৯০ শতাংশ ম্যালেরিয়া রোগী পাওয়া গেছে তিন পাবর্ত্য জেলা বান্দারবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। আবার এই তিন জেলার মধ্যে বেশি রোগী বান্দারবানে।

ডা. আফসানা আলমগীর খান জানান, ম্যালেরিয়াতে গত বছরের এই সময়ে শনাক্ত হওয়া রোগী ছিল সাত হাজার ৭২৮ জন আর চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৫৬৭ জন। গত বছর জুলাই পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল তিন জন তবে চলতি বছরে মারা গেছেন পাঁচ জন। তাই যেখানেই রোগী শনাক্ত হচ্ছে সেখানেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মীরা চলে যাচ্ছেন, ফোকাস ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে এবং যেখানে রোগী মারা গেছেন সেখানে ভারবাল অটোপসি করা হচ্ছে। এমনকী ম্যালেরিয়ার ভেক্টর (বাহক) নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গত বছরের সঙ্গে চলতি বছরের তুলনামূলক পার্থক্যে দেখা যায়, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে শনাক্ত হয়েছেন ৪০৯ জন। তবে এতে খুশি হওয়ার কিছু নেই, হয়তো অনেক রোগী শনাক্ত হননি বলে মন্তব্য করেন ডা. আফসানা।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ১০০টি এলাকায় (ডিএনসিসি ৪১টি এবং ডিএসসিসি ৫৯টি), দুই হাজার ৯৯৯টি বাড়িতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের ভেক্টরের ওপর এই জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।

গত ১৯ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে বলা হয়, উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার সূচক ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

জরিপে এডিস মশার প্রজনন স্থানগুলোর মধ্যে শতকরা হার বহুতল ভবনে ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ, বস্তি এলাকায় ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, একক ভবনে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং পরিত্যক্ত জমিতে দুই দশমিক ৯৪ শতাংশ।

তবে ডেঙ্গুতে রোগী সংখ্যা এত কম সেটা কী কোভিড পরিস্থিতির কারণে নাকি আসলেই রোগী কমেছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছুটা কোভিড পরিস্থিতি এবং বাকিটা স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হয়েছে। তবে কোভিড পরিস্থিতির জন্য এই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কাজ করে এসেছে। দেশের ৬৪ জেলায় ৫২ হাজার ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত ভিত্তিতে প্রতিটি জেলাতে অবহিতকরণ সভা হয়েছে।’

প্রতিটি জেলায় পঠানো চিঠিতে বলা হয়, যারা জ্বর নিয়ে আসবেন তাদের কোভিড এর পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষাও করাতে। সেসব জেলা থেকে ডেঙ্গু সেভাবে শনাক্ত হয়নি। জনসচেতনামূলক কার্যক্রম ও সিটি করেপোরেশন এ ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: