কায়ো হামাক কিছু দেয় না ,খালি হামার ছবি তুলি নিয়া যায়’

নিউজ ডেস্কঃ

পশুর কাজ মানুষ করলে তা ‘দর্শনীয়’ হয়ে ওঠারই কথা। ছয়ফুল ইসলামও তেমনি সবার নজর কাড়েন। কিন্তু কলু কেন নিজেই ঘানি টানেন, সে কথা আড়ালেই পড়ে থাকে। আক্ষেপ করে ছয়ফুল তাই বলেন, ‘ম্যালা মানুষ খালি হামার ছবি তুলি নিয়া যায়, কায়ো হামাক কিছু দেয় না।’

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছয়ফুল (৪৫) ২৫ বছর ধরে ঘানি টানছেন। এ কাজে তাঁর সঙ্গী স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।

অর্থাভাবে গরু কিনতে না পারায় এই দম্পতি প্রতিদিন চার থেকে ছয় ঘণ্টা ঘানি টানেন। এতে যে পরিমাণ তেল ও খৈল হয়, তা বিক্রি করে আয় হয় ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এতে পাঁচজনের পরিবার চলে না। মোরশেদ, শারমিন ও ইমরান—তিন ছেলে-মেয়েই লেখাপড়া করছে। ঘানি টানার পর বাকি সময় দোকানে বসেন ছয়ফুল। গ্রামেই ছোট্ট একটি মুদির দোকান দিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার তেলি এই পরিবারের বসতবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তেলের ঘানি। স্ত্রীর সহযোগিতায় সেটি টানছেন ছয়ফুল।

ছয়ফুল জানান, পৈর্তৃকভাবে পাওয়া তিন শতক জমির ওপর টিনের চালার এই বাড়ি ছাড়া তাঁর কিছু নেই। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একটি গরু কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর রোগে মারা যায় গরুটি।

বংশপরম্পরায় এ পেশায় জড়িত ছয়ফুলরা, যা স্থানীয়ভাবে তেলি নামে পরিচিত। তাঁদের নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে তেলিপাড়া।

ছয়ফুল জানান, তাঁরা ৯ ভাইয়ের সবাই তেলি ছিলেন। দুই ভাই মারা গেছেন। বাকিরা পেশা পরিবর্তন করেছেন। একমাত্র তিনিই পারিবারিক পেশা আঁকড়ে আছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: