সময়মতোই বই পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্কঃ

নভেল করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার বই উৎসব না হলেও নতুন বছরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে বই। সেখান থেকে বই সংগ্রহ করবে শিক্ষার্থীরা। এবার সামগ্রিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে বই উৎসব না হলেও নতুন বছর শুরু হওয়ার আগের দিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌছে দেওয়া হবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের সব বই এরই মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের বই পাঠানো হয়েছে ৭৫ শতাংশের মতো। ফলে এবার বছরের প্রথম দিন মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী বই পাবে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, এবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৯৪ হাজারের বেশি শিশুকে নিজ ভাষায় পাঠ্যবই দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির সব বই এবং তৃতীয় শ্রেণির শুধু বাংলা বই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ব্রেইল বই। এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য এবার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী চাকমা, মারমা, সাদ্রী, ত্রিপুরা ও গারো শিক্ষার্থীদের নিজ ভাষায় পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।

জানা যায়, এ বছর মাধ্যমিকের বই প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ। মোট সাড়ে ৩৪ কোটি বইয়ের মধ্যে বাকিটা প্রাথমিকের। ১ জানুয়ারির আগে মাধ্যমিকের সব বই না পৌঁছলেও প্রাথমিকের সব বই পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, একেক দিন একেক শ্রেণির বই বিতরণ করা হবে। রোল নম্বর অনুযায়ী আগে থেকেই বইগুলো প্যাকেট করা থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব বই বিতরণ করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘বই কীভাবে পৌঁছানো হবে, সে বিষয়ে যাবতীয় নির্দেশনা আমরা জেলা পর্যায়ের এরই মধ্যে দিয়েছি। আমরা আশা করছি, মাধ্যমিক পর্যায়ে সব বই বছরের প্রথম দিন দেওয়া সম্ভব না হলেও জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সব বই বিতরণ করা সম্ভব হবে।

এনসিটিবির বই বিতরণ নিয়ন্ত্রক জিয়াউল হক বলেন, ‘এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছানোর কাজ চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে যাবে। সব বই পৌঁছাতে আরো এক দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে প্রাথমিকের সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিকের ১৫ কোটি এবং প্রাথমিকের ৮ কোটিসহ ২৫ কোটি বই উপজেলা শিক্ষা অফিসে পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাকি বই পাঠানোর চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকের সব বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর সব আয়োজন করা আছে। আশা করছি পৌঁছাবে।’

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের নিজ ভাষায় এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্রেইল বই দেওয়া হবে। ২০১৬ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের নিজ ভাষায় পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাঁওতাল নৃ-গোষ্ঠীর নিজ ভাষায় বই দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের মধ্যে একাধিক গ্রুপ থাকায় কোনো ভাষায় অক্ষর লিপিবদ্ধ হবে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এ কারণে এ বছরেও সাওতালদের নিজ ভাষায় বই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ১ জানুয়ারি কোনো বই উৎসব হচ্ছে না। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে বই নিয়ে যাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাউশি এবং ডিপিই স্কুলে বই পৌঁছানোর জন্য ড্রাফট তৈরি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই ড্রাফট অনুমোদনও করেছে। নবম ও দশম শ্রেণির ১৩টি বইয়ের মধ্যে মূল বই আটটি যথাসময়ে পৌঁছবে। বাকি বইগুলো পৌঁছাতে কিছু সময় লাগবে।

মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকায় আগামী ১ জানুয়ারি নতুন বছরের বই উৎসব হচ্ছে না। অন্যান্য বছর প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের শুরুর দিনে এই বই উৎসব হতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন বই বিতরণ উপলক্ষে অনেক ধরনের আয়োজন থাকত। প্রতিটি বিদ্যালয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে প্রতি বছর।

জানা যায়, মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আরো বাড়তে পারে। ফলে নতুন বই কবে পাবে শিক্ষার্থীরা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ বছর মোট সাড়ে ৩৪ কোটি নতুন বই মুদ্রণ করা হয়েছে। এ বই এখন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: