আল আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা

mosque

নিউজ ডেস্কঃ জেরুজালেমে মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ এলাকায় নিরপরাধ মুসল্লি ও সাধারণ জনগণের উপর ইসরায়েলি পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক শেখ জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদ এবং সেখানে ইসরায়েলি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগে এক ভয়াবহতা প্রকাশ পেয়েছে। এটা মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং চুক্তি লঙ্ঘন। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এই ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

পুরো রমজানজুড়ে আল আকসা জেরুজালেমের সহিংসতার কেন্দ্রস্থল হয়ে আছে। দুই পক্ষের এই সংঘর্ষের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

ইসরায়েলের ‘জেরুজালেম দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল আকসা মসজিদের সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

এ সহিংতায় ১৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

বড় ধরনের এই সংঘাতের পর দেওয়া বিবৃতিতে ফিলিস্তিন সঙ্কটে দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধান চাওয়ার অতীত অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

জেরুজালেমে ‘সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ এবং দখলকৃত এলাকার ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবরদখল’ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, “এই ধরনের বর্ণবাদী নীতি ও ভীতিকর পদক্ষেপ দখলকৃত এলাকায় যুদ্ধাপরাধের সামিল হতে পারে।”

জেরুজালেমের দখল করা পূর্ব অংশ ইসরায়েল নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করে নিলেও তাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সায় মেলেনি, তারপরও পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দেখে ইসরায়েল।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখণ্ড নিয়ে যে রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখে, তার রাজধানী করতে চায় পূর্ব জেরুজালেমকে।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধ পূর্ববর্তী সীমানার আলোকে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আলোকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার অবস্থানও বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে জনগণের সার্বভৌম ও স্বাধীন স্বদেশ নিশ্চিতের অলঙ্ঘনীয় অধিকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সংঘাত ছেড়ে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দুই পক্ষকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: