ইয়াসের হাত থেকেও রক্ষা করবে সুন্দরবন
২০১৯ সালে যখন ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ যখন আঘাত হেনেছিল, তখন বাংলাদেশকে রক্ষা করেছিল সুন্দরবন। এর থেকে যত পেছনে দেখা যায়, বারবার এই দেশকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। বাংলাদেশের মানুষ ও সম্পদ রক্ষার ঢাল হিসেবে সবসময় ভূমিকা পালন করছে সুন্দরবন। আগেও বেশ কয়েকটি ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের সময় তা প্রমাণিত হয়েছে।
যতবারই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, প্রত্যেকবার হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি সবকিছু থেকেই রক্ষা করেছে এই ম্যানগ্রোভ বনটি। আগলে রাখতে, রক্ষা করতে গিয়ে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্দাজ করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ থেকেও বাংলাদেশকে রক্ষা করবে সুন্দরবন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মডেল অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি ঊড়িষ্যা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেশি। তবে বাকি সব মডেলই (আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি) বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশের ওপর দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।
অবস্থান বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নিম্নচাপটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তাহলে সেটা বুধবার (২৬ মে) দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আঘাত হানা শুরু করতে পারে।
এখন পর্যন্ত ভারতের ঊড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলা হচ্ছে। আর তা যদি হয় তবে বাংলাদেশের সুন্দরবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আঘাত করার পরপরই তার তীব্রতা কমে যায়। ধীরে ধীরে এটি সাইক্লোন থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। তবে এর আগে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা আরও একটু কমে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর, ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ ২৬০ কিলোমিটার বেগে সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল। তবে সুন্দরবন না থাকলে এই ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতো।
একইভাবে, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছিল।

