বাড়ছে না শিথিলতা, শুরু হচ্ছে লকডাউন

নিউজ ডেস্ক:

পেছাচ্ছেনা লকডাউন, পূর্ব নির্ধারিত সময়েই শুরু হচ্ছে কঠোর বিধি নিষেধ। গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্যে বিধি-নিষেধে শিথিলতা দেয়া হয়েছিলো তার মেয়াদ আর বাড়বে না। ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু করা হবে।  এই বিধি-নিষেধ চলবে আগস্ট মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত।

গত মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, করোনা মহামারির বিস্তার রোধে  বিভিন্ন বিষয়ে সরকার আরোপিত বিধি-নিষেধ আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে আগামী ২৩ জুলাই থেকে ফের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হবে।

কঠোর লকডাউনে যেসব বিষয় মেনে চলতে হবে:

১. সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪. সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫. সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক [বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি]

৭. রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৮. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯. ব্যাংকিং/বিমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

১০. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কাজ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১১. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/বিক্রয়, ত্রাপ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্সাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ইদানিং কালে মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা দুই শতাধিকের ও বেশি। যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দেখাচ্ছে অশনী সংকেত।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3