যেভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

নিউজ ডেস্কঃ হেলেনা জাহাঙ্গীর, গত কয়েক বছর ধরে আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবেই পরিচিত। সম্প্রতি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের পোস্টারকে ঘিরে বিতর্কিত হন। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদ বাতিল করা হয় তার।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে গুলশানের বাসা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা ও হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়েছে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর মূলত একজন নারী উদ্যোক্তা হলেও কিছুদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএরও সদস্য তিনি।

জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশনেরও মালিক তিনি। এছাড়া প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সব মিলিয়ে ১০ হাজারেও বেশি কর্মী আছে তার এসব প্রতিষ্ঠানে।

জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ও জয়যাত্রা টিভির ব্যানারেই বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি এবং অনুদান সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীর।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি নিয়োগের নামে চাঁদাবাজি করতেন হেলেনা। প্রতিনিধিদের বেতন দেয়া তো দূরের কথা উল্টো টাকা না পাঠালে প্রতিনিধিদের নিউজ প্রচার হতো না। শুধু দেশেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশেও জয়যাত্রার প্রতিনিধি ছিল, তাদের সবার কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হেলেনা জাহাঙ্গীর নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি গার্মেন্ট ও নগরীর অভিজাত এলাকায় অন্তত ১৬টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদিকে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: