জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ

নিউজ ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।

রোববার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ১০ মিনিট থেকে আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের টানা মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ।

এর মধ্যেই ১টা ২৫ মিনিটে সমিতির সম্পাদকের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপিপন্থী সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান একটি মীমাংসিত সত্য। ১৯৭১ সালে দিশেহারা এ জাতির ক্রান্তিকালে তৎকালীন মেজর জিয়া যদি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করতেন ও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে আজকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হতো কিনা সেটাই যেখানে প্রশ্ন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালে রণাঙ্গনে শহীদ জিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্থাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যে সাহসিকতা ও ভূমিকা রেখেছিলেন তার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ‘বীরোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে। জিয়াউর রহমানের মত এমন একজন বীর সেনানী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা অতিসম্প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক এবং ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের বিকৃতি।

সরকার সমর্থক আইনজীবীদের পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানসহ কিছু ব্যক্তি পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কনফেডারেশন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলো। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধু যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত, তখন জিয়াউর রহমান দেশে অরাজক সৃষ্টিকারি গণবাহিনী ও সর্বহারা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলো। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী সৈনিক জিয়া ও মোশতাকের ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য সফল করতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী খুনি জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে গুপ্ত হত্যা, রাজনীতিবিদ হত্যাসহ এহেন কর্মকান্ড নেই যা করেনি। তিনি সমিতির সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলনেরও নিন্দা জানিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারকে (সমিতি) দলীয় প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , ,