টিকা না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে না পেরে কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসীরা। শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ টিকা কেন্দ্রের সামনে তারা এই বিক্ষোভ করেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে পরে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সেখানে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করার মাধ্যমে তাদের আন্দোলন শেষ করেন।
ফরিদপুর সদরপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে আসা চম্পা খাতুন বলেন, আমি বুধবার গ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। আজ এখানে আমার টিকা দেওয়ার তারিখ। বসুন্ধরা আমার এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে ভোর ৫টার সময় টিকা কেন্দ্রে আসি। এখন বলছে আজ টিকা দেওয়া হবে না। এরপর কবে যে টিকা দেওয়া হবে তার নির্দিষ্ট করে বলছে না। এখন গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া আর কী করব? ১৯ অক্টোবর আমার ছুটি শেষ। আমি এখনও এক ডোজও টিকা নিতে পারিনি।
চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে টিকা নিতে আসা নাইম ইসলাম নামে এক প্রবাসী বলেন, ২ মাস আগে আমি টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি। গত ৬ সেপ্টেম্বর আমার মেসেজ আসছে, এরপর দিন আমি এখানে আসি। ওই দিন আমাকে টিকা দেওয়া হয়নি। তখন আমাকে শনিবার ১১ সেপ্টেম্বরে আসার কথা বলে দেয়। সেই কথা মতো আজ ফজরের পর আমি এই টিকা কেন্দ্রে এসেছি। এসে লাইনে দাঁড়াই। এরপর বলছে আমাদের আজকেও টিকা দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ চলে যাচ্ছে। সবাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। তারা সবাই এজেন্সিতে টাকা দিয়ে রাখছে। আমাদের এই ভোগান্তি হয়রানি করছে। আমাদের সেভাবে কোনো আশ্বস্তও করছে না কবে টিকা পেতে পারি। আমরা দাবি জানাচ্ছি প্রবাসীদের যেন দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
টিকা নিতে না পেরে প্রবাসীরা ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে সময় হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের হাসপাতাল সীমানার বাইরে বের করে দেন। পরে তারা পাশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শহীদ মিনার থেকে একপর্যায়ে তারা দল বেঁধে জাতীয় প্রেসক্লাবে যায় মিছিল নিয়ে। সেখানে তারা কিছুক্ষণ আন্দোলন করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক কর্মকর্তা তাদেরকে ৩ দিনের মধ্যে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে আশ্বস্ত করলে তারা যার যার বাড়ি ফিরে যান।

