ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ :চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ
নিউজ ডেস্ক :
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ,সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে চমেক কর্তৃপক্ষ ।এ কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চমেক ছাত্রলীগের দুপক্ষ গেল দুই বছরে কমপক্ষে ২০ বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে করোনা মহামারি সময়ে।
গত শুক্রবার(২৯ অক্টোবর), রাতে নগরের চট্টেশ্বরী সড়কে চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন কয়েকজন। এর জের ধরে গতকাল সকালে কলেজে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল দুপুরে জরুরি সভা ডাকে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল। কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের ওয়ার্ডের ডিউটি থেকে কলেজ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সচিব মো. হায়াৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার থেকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। যেসব শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে অবস্থান করছে, তাদের শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে নিজেদের আসন ছাড়তে বলা হয়েছে।”
এর আগে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে গতকাল সকাল ৯টার পর থেকে ক্যাম্পাসে দুপক্ষের মধ্যে ফের ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আকিব হোসেনকে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের মধ্যে নাঈমুল ইসলাম, মাহফুজুল হক, নাহিম আহমেদ ও মোহাম্মদ শোহেবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর মধ্যে আকিব ও নাহিম শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মাহফুজুল ও নাঈমুল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
এদিকে ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। ছাত্রাবাস ছাড়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার পর ছাত্ররা আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
শুক্র ও শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করেছে। আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত চমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. আল আমিন ইসলাম শিমুল বলেন, ‘ছাত্রলীগ নামধারী একটি পক্ষ ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য বারবার চেষ্টা করছে। তাদের হামলায় আমাদের তিনজন আহত হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ দাশ বলেন, ‘তারাই আমাদের ছেলেদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আকিবের অবস্থা খুব খারাপ।’
পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, “দুপক্ষের মারামারির ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। আকিব আহত হওয়ার ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে তা তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না।”

