দুই বছরে চমেক ছাত্রলীগে ২০ বার সংঘাত:নেপথ্যে চাঁদাবাজি

নিউজ ডেস্ক :

প্রায় আট মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মিছিল-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কলেজ কর্তৃপক্ষের এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত থেমে নেই। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষ গেল দুই বছরে কমপক্ষে ২০ বার সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে করোনা মহামারিকালে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মীদের কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দলের বিভিন্ন নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা চমেক ছাত্রলীগের দুপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিনে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন দুপক্ষের নেতাকর্মীরা। কয়েক দিন না যেতেই সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন কর্মীরা। থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও কিছুদিন না যেতে এসব মামলা পড়ে ধামাচাপা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উভয় পক্ষের একাধিক নেতা জানান, ক্যাম্পাসের আশপাশে বেসরকারি কয়েক’শ ওষুধের ফার্মেসি, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব ঘিরে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি করেন।

একটি পক্ষ হাসপাতাল ও কলেজে এমএসআর এবং নন-এমএসআর খাতে মালপত্র সরবরাহকারী বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয়। মূলত এসব নিয়ে কয়েক বছর ধরে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে মরিয়া হয়ে ওঠে উভয় পক্ষ। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের ক্যাম্পাসে একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে আড়াই বছর ধরে অন্য একটি পক্ষ ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেক ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, যেকোনো সময় বড় সংঘাতের শঙ্কা রয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতার অনুসারী ছাত্রলীগের দুই পক্ষ কয়েক মাস ধরে ক্যাম্পাসে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য কয়েক দফায় সংঘাতে জড়ালেও আওয়ামী লীগের দুই নেতা চমেক ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করতে পারেননি।

উল্লেখ্য যে,গত ২ মার্চ চমেক প্রধান ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের পরদিন একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩ মার্চ থেকে ক্যাম্পাসে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3