মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠ

নিউজ ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের সাবেক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিসুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ১৪ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অসুস্থ থাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আজ এ মামলার শুনানি হয়।’

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সোনারগাঁও থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগে মামুনুল হকই একমাত্র আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে আজকে চার্জ গঠন হয়েছে। সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে পুলিশ পাহারায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুরে তাকে আবারও কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে ভুক্তভোগী নারী উপস্থিত ছিলেন না।’

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল বিকেল ৫টায় সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন। সন্ধ্যা ৭টায় মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুর করে নারীসহ মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তারা গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও, এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও আহত সাংবাদিক একটি মামলা দায়ের করেন। তার কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরও ৩টি মামলা দায়ের করেন। ৬টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।

পরে ৩০ এপ্রিল সকালে ২ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী। যাকে মামুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •