১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কালপ্রিট

নিউজ ডেস্ক:

১৫ দিন পরও রাজধানীর বনানীতে প্রাইভেট কারের চাপায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক হাবিলদার মনোরঞ্জন হাজংয়ের পা হারানোর ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

উল্লেখ্য যে, এ ঘটনায় মামলা নিতেও প্রথমে গড়িমসি করলেও শেষমেশ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মনোরঞ্জনের মেয়ে মহুয়া হাজংয়ের অভিযোগ মামলা হিসেবে নেয় বনানী থানা।
মহুয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে কর্মরত সার্জেন্ট।

এদিকে গতকাল শুক্রবার জানা যায়, রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধাীন মনোরঞ্জন হাজং স্ট্রোক করেছেন।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বনানী থানার পরিদর্শক আলমগীর গাজী বলেন, “আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

এই বিষয়ে মহুয়া হাজং বলেন, “থানা পুলিশ মামলা নিতে দেরি করায় অপরাধীরা পালানোর সুযোগ পেয়েছে। তবে দেরিতে মামলা নিলেও আসামিদের গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় আছি আমি।”

মহুয়া আরোও বলেন, তাঁর বাবার অবস্থা সংকটাপন্ন। এরই মধ্যে বাবার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছে। এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আরেক পা-এর কী হয়, তা ভেবে চিকিৎসকরা কিছুটা শঙ্কিত।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবাকে যে গাড়িটি চাপা দিয়েছে, সেটির মালিক একজন বিচারপতি। এ কারণেই লিখিত অভিযোগ দিলেও বনানী থানা তাঁর মামলা রেকর্ড করতে দেরি করেছে। তিন দফা বনানী থানায় মামলা করার জন্য গেলে তাঁর অভিযোগ নেওয়া হয়নি। মামলা করতে গিয়ে এজাহার অনেকবার পাল্টাতে হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম কাটতে হয়েছে। আসামির নাম লিখে, অজ্ঞাতপরিচয় লিখতে হয়েছে। ঘটনার পরপরই রেকার দিয়ে পুলিশ ওই চাপা দেওয়া গাড়িটি (প্রাইভেট কার) থানায় নিয়েছিল। এরপর থানা থেকে গাড়িটি নিয়ে গিয়েছেন আসামিরা। সিসিটিভির ফুটেজে ওই ঘটনার সব তথ্য আছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঘটনার পর গাড়িটি আটক করে থানায় নেওয়া হলো, অথচ সেই থানা থেকে আসামিরা ছাড়িয়ে নিয়ে গেল। এতে কি প্রমাণ হয়, যারা গাড়িটি ছাড়িয়ে নিয়ে গেল তাদেরও পুলিশ চেনে। তাহলে কেন নাগালে পেয়েও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলো না!

  •  
  •  
  •  
  •