শেষমেশ কারাগারে ঠাঁই মিলল মুক্তিযোদ্ধার!

নিউজ ডেস্ক:

গত ২ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাত্তার মিয়া। তিনি যেখানে বসবাস করছিলেন জায়গাটি কলেজের নয়, ব্যক্তি মালিকানার এবং সেখানে ভাড়া থেকেও তিনি সেটা পরিশোধ করছেন না- এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তারকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

কলেজের নৈশ প্রহরীর চাকরি করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাত্তার মিয়া। অধিকাংশ সময় কাটাতে হত কলেজে। এরপর সবকিছু ভেবে ছাত্তার মিয়াকে কলেজের খালি জায়গায় থাকার সুযোগ করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানায়, ছাত্তার মিয়ার বাড়ি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নেমতাবাদ গ্রামে। তিনি চাকুরি করতে আখাউড়া শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের নৈশ প্রহরী হিসেবে। প্রায় ৩৫ বছর আগে কর্তৃপক্ষ কলেজের জায়গায় (রাধানগরের কলেজ পাড়া) তাকে থাকার সুযোগ করে দেন তৎকালীন অধ্যক্ষ এ এম মো. ইসহাক (বীরপ্রতীক)। সেখানে টিনের ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে থাকছেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৭ সালে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ওই জায়গাটি নিজের দাবি করে ও ছাত্তার মিয়াকে ভাড়াটিয়া উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভাড়াটিয়া চুক্তি অনুযায়ী ছাত্তার মিয়া ভাড়া পরিশোধ করছে না। ওই মামলায় গত ২ ডিসেম্বর হাজিরা দিতে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত ছাত্তার মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মিয়া (৭৮) কারাগারে থাকার প্রতিবাদে রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মানববন্ধন করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মানববন্ধনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সময় বেধে দেওয়া হয়। এর আগে এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হককেও অবহিত করা হয়।

ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বলছেন, ভাড়াটিয়া চুক্তিনামার কাগজে কৌশলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ছাত্তার মিয়ার। কলেজের জায়গাটি আত্মসাত করতে ভুয়া কাগজপত্রও তৈরি করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন জানান, জায়গাটি শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের। চাকরিকালীন অবস্থায় ছাত্তার মিয়াকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছিল।

মামলার বাদী মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ক্রয় সূত্রে তিনি ওই তিন শতক জায়গার মালিক। ছাত্তার মিয়ার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার লিখিত চুক্তিপত্র আছে।

  •  
  •  
  •  
  •