ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ও বঙ্গবন্ধু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ, বাংলাদেশ। আজকের এই বাংলাদেশ নামটি একদিনে সৃষ্ট নয়। এর পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস- অসংখ্য আত্মত্যাগ, তাজা রক্ত, শোষিত হওয়ার গল্প এবং একজন শেখ মুজিব। তখন ১৯৫২ সাল, যখন বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়, আর ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ- বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে রুপ পায় আপামর জনসাধারণের সংগ্রাম হিসেবে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই চলছে শাসন ও শোষণ। প্রথম আঘাত আসে ভাষার উপর, অতঃপর ক্রমান্বয়ে শিক্ষা, সামরিক, অর্থনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রেই বাঙ্গালী বৈষম্যের শিকার হয়। এভাবে নিপীড়ন চলার পর ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ যখন জাতীয় অধিবেশন স্থগিত করা হয় তখন- বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আনদোলনের ডাক দেন এবং তারপরই ৭ই মার্চ- ১০ লাখ জনতার সাম্মুখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ মিনিটের ভাষণ দেন। তিনি বাঙ্গালীকে এটির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘২৩ বছরের ইতিহাস, এদেশের মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো এবং তোমার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবে রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিবো কিন্তু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙ্গালী উদ্বুদ্ধ হয় এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে বাঙালির স্বাধীনতার লাল সূর্য। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা দেয়।

