দেশে এক বছরে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন

নিউজ ডেস্ক:
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতিতে গোটা বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। তবে দুধ উৎপাদনে দেশজ চাহিদা পূরণ সম্ভব না হলেও দেশে এক বছরে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন।

পরিবেশ পুষ্টি ও আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে টেকসই ডেইরী সেক্টর এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে আজ বুধবার (১ জুন) পালিত হবে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২২।

বিশ্বের অন্যান্যদেশের মতো বাংলাদেশেও দুগ্ধ দিবস পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দিনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অর্থাৎ দেশের ৬১ টি জেলায় প্রচারণা, র্যালী, আলোচনা সভা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, টক শো, মেলা, শিক্ষার্থীদের দুগ্ধ পান, ডেইরী আইকন-২০২১ পুরষ্কার দেয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দুধের মূল উৎস গরু। ৯০ শতাংশ দুধ আসে গরু থেকে, আট শতাংশ আসে ছাগল থেকে এবং দুই শতাংশ আসে মহিষ থেকে। ১৯৮৯-৯০ থেকে ২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ২.৪ শতাংশ, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১৬.৪৪ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ছিল ২৩.৭০ লাখ টন, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নীত হয়েছে ১০৬.৮০ লাখ টনে।

বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১৯৩.৩৮ মিলিলিটার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫২.০২ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দুধ উৎপাদন হয় ১০৬.৮০ লাখ টন।২০২০-২০২১অর্থবছরে ৷ মোট চাহিদা ১৫৪.৯৪ লাখ মে.টন বিপরীতে উৎপাদন ১১৯.৮৫ লাখ মে.টন। জন প্রতি প্রাপ্যতার দিক দিয়ে দিনে ১৯৩.৩৮ মিলি. এহিসেবে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩.০৫ লাখ মে.টন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দুধের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার ব্যবস্থা জোরদারকরণ, দুগ্ধজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণসহ স্কুলফিডিং-এর মাধ্যমে দুধপানের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দুগ্ধ খামারিরা জানায়, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, মানসম্পন্ন দুধ সরবরাহ না করা, ভেটেরিনারি চিকিৎসক সংকট, দুধ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করতে না পারা, ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং বিদ্যুতের মূল্য, গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি দুগ্ধ উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) মহাসচিব শাহ এমরান বলেন, প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুধের চাহিদা। ভারতে খামারিরা সরকারি ভর্তুকি পায়। বাংলাদেশে খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ, বিপণন ও ভর্তুকি দিলে এ শিল্পে বিপ্লব ঘটবে।

  •  
  •  
  •  
  •