রেড মিট ও ক্যান্সার ঝুঁকি
মো. রমীম তানভীর রহমান:
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO-Food and Agriculture Organization of the United Nations) এর তথ্য মতে, প্রতি বছর ৩১১.৮ মিলিয়ন টন মাংস খাওয়া হয়। যার মধ্যে ১১৫.৫ মিলিয়ন টন শূকরের, ১০৮.৭ মিলিয়ন টন মুরগী, ৬৮ মিলিয়ন টন গরু ও অন্যান্য।
ধারনা করা হয়, ২০৫০ সালের ভেতর এর পরিমান দ্বিগুন হবে। রেড মিট বলতে সাধারনত গরু, শূকর, ভেড়া, ঘোড়ার মাংসকে বোঝানো হয়। মাংস আমাদের খাবারে প্রোটিন, আ্যামাইনো এসিড, বিভিন্ন ভিটামিন যুক্ত করে কিন্তু বর্তমানে গবেষকরা মাংস খাওয়া এবং মরণব্যাধি ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক বের করেছেন।
তারা বলছেন, সপ্তাহে রেড মিট বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার পরিমান ৩০০ গ্রামের কম হওয়া উচিৎ। International Agency for Research on Cancer– তারা প্রক্রিয়াজাত মাংসকে “ক্যান্সার সৃষ্টিকারি দ্রব্য” বলে ঘোষনা করার দাবি জানিয়েছে।
প্রতিদিন ৫০ গ্রাম পরিমান রেড মিট খেলে ১৭% colorectal (কোলন) ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে অথবা প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পরিমান মাংস খেলে ১৮% colorectal (কোলন) ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে। অপরদিকে হোয়াইট মিট/পোল্ট্রি/মুরগীর মাংস খাওয়ার সাথে তেমন বিপরীত দিক তুলে ধরা হয় নাই।
গবেষকরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত মাংস অথবা রেড মিট খাবার ফলে শরীরে পরিচিত ক্যান্সার সৃষ্টিকারি উপাদান যেমন heterocyclic amines, polycyclic aromatic hydrocarbons, N-nitroso compounds, omega-3 polyunsaturated fatty acids এবং heme এর পরিমান বাড়ে। এমনকি এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদিও মাংসকে আমাদের খাদ্য তালিকায় বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়, তারপরও মাংস খাওয়ার পরিমানের দিকে নজর দেওয়া জরুরী।
_______________________________________
লেখক:
মাস্টার অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি,
ফুড নিউট্রেশন এন্ড ফাংশনাল ফ্যাকটর রিসার্স সেন্টার,
জিয়াংনান ইউনিভার্সিটি, উসি, চায়না।
ramimbau@yahoo.com
.
[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সবুজবাংলাদেশ24.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে সবুজবাংলাদেশ24.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।]

