অনলাইন গেম ও শিশু কিশোরদের ওপর এর বিরুপ প্রভাব
সাবরিন জাহানঃ
আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের সহজ ও আরামদায়ক জীবন উপহার দিলেও, প্রযুক্তির বিরুপ প্রভাব ও পড়ছে সমানভাবে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীকে আজ আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার প্রধান ভূমিকা রাখা ডিভাইস হলাে স্মার্টফোন, যা এখন ছােট থেকে বড় সবার হাতে হাতে দেখা যায়। প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে বাবা-মা বাচ্চাদের হাতে ফোন তুলে দিতে বাধ্য হলেও এর অপব্যবহার হচ্ছে বেশি।
যে সময় অন্যান্য কিশােরদের সঙ্গে সবুজ মাঠে খেলাধূলার কথা সেখানে দরজা বন্ধ করে পাবজি, ফ্রী ফায়ারের মত ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে ওঠেছে তারা। এখন যেখানে সেখানে একদল কিশােরকে রাতদিন এই গেমে মত্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। অনলাইনে দেশি-বিদেশি গেমারের সঙ্গে পরিচয় ও পরবর্তীতে তারা ইয়ারফোনে কথা বলা শুরু করে। ফলাফল রাতদিন গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকা, মা-বাবার সঙ্গে কোনাে কথা বলতে না চাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে না মেশা, ক্লাসের বই না পড়া,ক্রিকেট বা অন্য কোনাে খেলাও না খেলা ইত্যাদি। মা-বাবা রাগ করে মােবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেই অগ্নিমূর্তি হয়ে গিয়ে ধুমধাম করে ঘরের দরজা আটকে, মা-বাবাকে কটুবাক্য বলে আবার তার মােবাইলটি নিজের কবজায় নিয়ে আসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘গেমিং অ্যাডিকশন’ কে মনােস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
পাবজি এবং ফ্রী ফায়ার গেম দুটোর নাম শুনেনি, এমন লােক বর্তমানে বিশ্বে খুব কমই আছে। অনেকজন একসাথে খেলা যায় এমন ধরনের একটি গেম পাবজি, যেটা বর্তমানে সারা বিশ্বেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই গেমের প্রতি কিশাের কিশােরীদের নেশা খুব বেশি। এ ধরনের গেমের পুরােটা জুড়েই থাকে হিংস্রতা, মারামারি, যুদ্ধ। যত বেশি সহিংসতা তত বেশি পয়েন্ট! কখনাে হাতুড়িপেটা করে মাথা থেতলে দিচ্ছে। মুহূর্তে রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। কখনাে কখনো গ্রেনেড ছুঁড়ে প্রতিপক্ষের পা জখম করছে। এরপর খোঁড়াতে খোঁড়াতে পলায়নরত মানুষটির উপর মারছে দ্বিতীয় গ্রেনেড। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে তার হাত পা এবং তার রক্তমাখা দেহটা লুটিয়ে পড়ছে। এই রকম দৃশ্য হিংস্রাত্মক ছাপ ফেলছে শিশুদের কোমল মনে।
এছাড়াও দীর্ঘক্ষন মােবাইল ব্যবহারের ফলে ক্ষতি হচ্ছে দৃষ্টিশক্তির। স্মার্টফোনের নীল আলাে চোখের দৃষ্টি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে এবং এটি আস্তে আস্তে যে কাউকে চিরতরে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এছাড়াও সারারাত ধরে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে গেমে মত্ত থাকায় শিশু-কিশোরদের শরীরে বিভিন্ন রােগের বাসা বাধে।
মূলত ইন্টারনেট গেম আসক্তি অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের (মদ, হেরােইন, গাঁজা, ইত্যাদি) আসক্তির মতােই।
পরিশেষে বলা যায়, অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজকে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের পাশাপাশি বিকৃত করছে মানসিকতা। পরবর্তী প্রজন্ম রক্ষা করতে প্রয়ােজনে মনােরােগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই আসক্তি দূর করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং মাঠের খেলার প্রতি বাচ্চাদের উৎসাহ দিতে হবে। শিশুদের মােবাইল থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে।
সাবরিন জাহান, শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

