ভ্যাক্সিনের মিশ্র প্রয়োগ কতটুকু যৌক্তিক?

রাগিব হাসান বর্ষণঃ

সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজে দুটি ভিন্ন ভ্যাক্সিন  প্রয়োগ করা যাবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অপ্রতুল হওয়াতে অনেক দেশই ভ্যাক্সিনের মিশ্র ডোজ দেয়ার চিন্তা শুরু করেছে।

সম্প্রতি বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ভ্যাক্সিনের মিশ্র ডোজ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিশ্র ডোজ দেয়ার খবরের পরপরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণা এসেছে। যদিও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ভিন্ন কোম্পানির দুইটি টিকা দিয়ে দুই ডোজ পূর্ণ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে কিন্তু এ ব্যাপারে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রন বৈজ্ঞানিক সৌম্য স্বামীনাথন, তিনি সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় একথা জানান।

২০২০ সালের মে মাসে ইবোলা প্রতিরোধের জন্য ভ্যাক্সিনের মিশ্র ডোজ অনুমোদন দেয়া হলেও কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে এখনি এই অনুমতি দেয়ার সময় আসেনি বলে মনে করেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইন্সটিটিউট এর মলিকুলার ভাইরোলজিস্ট র‍্যামন লরেঞ্জো। তিনি বলেন এই ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো পর্যাপ্ত ডাটা নেই।

সম্প্রতি বিশ্ব করোনার প্রভাবে প্রচুর মৃত্যু দেখছে যার ফলে প্রায় সকল দেশেই টিকাদান কর্মসূচিতে জোর দেয়া হচ্ছে কিন্তু চাহিদার তুলনায় টিকার উৎপাদন আশানুরূপ না হওয়ায় অনেক দেশেই ভ্যাক্সিনের সংকট দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড-এস্ট্রোজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আছে, এই জন্যই মূলত টিকার মিশ্র ডোজ দেয়ার চিন্তা করছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

অনেকেই মনে করেন যে টিকার মিশ্র ডোজের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ভালো হবে কারণ টিকার মিশ্র ডোজের ব্যবহার অনেক পুরানো একটি ধারণা। পোলিওর ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে দুইধরনের ভ্যাক্সিন একসাথে প্রয়োগ করা হয় অনেক সময়।

ড. রমেশ ভাসকরণ (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, দুবাই এস্টার হসপিটাল) গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার এ বলেন যে মিশ্র ডোজ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো ভালোভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে সহায়তা করবে কারন দুইটি ভিন্ন কোম্পানির টিকার সাহায্যে আমরা মূলত দুইভাবে আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, যদিও তিনি মনে করেন মিশ্র ডোজ দেয়ার ফলে আরো বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে বর্তমানে কোভিডের ভ্যাক্সিন তৈরি করা হচ্ছে যেমনঃ ফাইজার আর মডার্ণা এমআরএনএ পদ্ধতিতে ভ্যাক্সিন উৎপাদন করছে, অক্সফোর্ড-এস্ট্রোজেনেকা আর রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাক্সিন ভেক্টর বেজড।

একই পদ্ধতিতে অবলম্বনে তৈরি করা ভ্যাক্সিন হয়তো মিশ্র আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে কিন্তু তারজন্য তাড়াহুড়া না করে পর্যাপ্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার উপরই জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , , ,