জমিতে কীটনাশক ছিটাবে মাহমুদের ড্রোন
খুলনা প্রতিনিধি:
দৃশ্যটা একবার কল্পনা করুন তো, খুলনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক কৃষকের জমিতে ড্রোনের সাহায্যে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে! ভাবা যায়?
প্রাথমিকভাবে এই ‘কল্পনা’কে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর-পড়ুয়া ছাত্র, কাজী মাহমুদ হাসান। সম্প্রতি ড্রোনটির সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে এটি কাজ শেষে নিজের স্থানে ফিরেও আসে। শুধু তা-ই নয়, কোথাও বাধা পেলে এটি নিজে নিজেই ফিরে আসতে পারে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসানের তত্ত্বাবধানে কাজী মাহমুদ হাসান এই ড্রোন তৈরি করেছেন। এখন এটি আরও আধুনিকীকরণ করে কীভাবে কৃষিক্ষেত্রে সার, বীজ ও ফসলের অন্যান্য রোগ নিধনে ব্যবহার করা যায়, সেই পরিকল্পনা চলছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার করতে চার লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেন তিনি। তাঁর এই প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন শিক্ষক শামীম আহসান। তা ছাড়া কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহারের মূল পরিকল্পনাকারীও তিনি।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফসলে কীটনাশক ছিটাতে পারে এই ড্রোন। শামীম আহসান বলেন, ‘কীটনাশক ছড়ানোর সময় অধিকাংশ কৃষক কোনো অ্যাপ্রোন বা মাস্ক ব্যবহার করেন না। এতে তাঁদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তা ছাড়া এক বিঘা জমিতে কীটনাশক ছিটাতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। তাই যদি প্রযুক্তিগতভাবে হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই কীটনাশক ছিটানো যায় তাহলে কৃষকের এসব সমস্যা দূর হবে, সময়ও বাঁচবে। প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে তারা অনুমোদন করে। পরে সিভিল অ্যাভিয়েশনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন আরও উন্নত করার পেছনে কাজ চলছে।’
ড্রোন তৈরি করতে গিয়ে কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান মাহমুদ হাসান। কিন্তু তিনি তাতে দমে যাননি; বরং আরও উদ্যম নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই ড্রোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট পরিমাণ কীটনাশক ছিটাতে পারে। এতে একদিকে যেমন কীটনাশকের অতিমাত্রায় ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে কমবে কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি।’
ড্রোনটি একবার চার্জ করলে ২৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৩৮ কিলোমিটার। ঘরে বসেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে উঠতে পারে এই উড়াল যন্ত্র। তিন লিটার কীটনাশক বহন করতে সক্ষম মাহমুদের ড্রোন। যার ওজন মাত্র পাঁচ কেজি।
মাহমুদ মনে করেন, ‘এ ধরনের ড্রোন যদি কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে দেওয়া হয়, তাহলে কৃষকেরা এর সুফল পাবেন। আর ড্রোন তৈরির উপকরণ যদি দেশেই তৈরি করা যায়, তাহলে এটা তৈরিতে খরচ অনেক কমে আসবে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফায়েক উজ্জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সে চেষ্টাই করছে।’
সূত্র: প্রথম আলো

