মনে পড়ে প্রথম ক্লোন ভেড়া ডলির কথা?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:
মনে আছে সেই ডলির কথা? ২০ বছর আগে চিকিৎসা ও জিন বিজ্ঞানের জগত তোলপাড় করে দিয়েছিল যে ভেড়া! কী খবর তার, বেঁচে আছে কি? তার সন্তান-সন্ততির খবর কী?

এই ডলি নামের ভেড়াটি ছিল প্রথম কোনো ক্লোন স্তন্যপায়ী। অর্থাৎ শুধু একটি দেহকোষ থেকে পরীক্ষাগারে আস্ত একটা ভেড়া বানানো হয়েছিল! যেখানে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান উৎপাদনের জন্য বাবা-মায়ের বিকল্প ভাবতেই পারতো না মানুষ।

তবে ডলির জন্মের পরই শুরু হয় আরেক বিতর্ক। এভাবে ক্লোন করা প্রাণিরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে কি না, এদের আয়ু কেমন হবে, এভাবে প্রাণিদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হচ্ছে কি না- এ নিয়ে পশু অধিকারকর্মীরা বেশ সরব হয়ে ওঠেন। সর্বোপরী এটা মানুষের ক্ষেত্রেও যদি করা হয় তাহলে একটা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও করা হয়। এ কারণে মানবক্লোন আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞানের জগতে এটা ছিল নিঃসন্দেহে একটা যুগান্তকারী উদ্ভাবন। ক্লোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সবগুলো ক্লোন দেখতে হুবহু একই রকম। এদের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই কঠিন। মানুষের ক্লোন হলেও তারাও এরকম হবে।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে ডলি মারা যায় তুলনামূলক কম বয়সেই, মাত্র সাড়ে ৬ বছর বয়সে। তবে তার সন্তানেরা (ক্লোন) কিন্তু বেঁচে আছে। এবং সেগুলো ভালোভাবেই বেঁচে আছে, তাদের আয়ুও বেশি।

এই বেঁচে থাকা সন্তানদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচারে নিবন্ধ লিখেছেন কেভিন সিনক্লেয়ার। তিনি বলেছেন, ডলির ক্লোনেরা সবাই সুস্থ। এখন চারটি ক্লোন আছে, এদের শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা নেই।

প্রথম ডলির জন্মের পর আয়ু এবং স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছেন সিনক্লেয়ার।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: