২০৩৩ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠাবে নাসা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক:
পৃথিবীর প্রতিবেশি গ্রহ মঙ্গলে যে করেই হোক মানুষ পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’কে চাপ দিয়ে আসছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের দুটি কক্ষই এই বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে একটি বিল পাস করেছে।

এরফলে নাসা ১হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের বিশেষ অর্থ সাহায্য পাচ্ছে। তবে শর্ত একটাই, ২০৩৩ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর অভিযানে সফল হতে হবে। অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই রহস্যময় লাল গ্রহটিতে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে নানা গবেষণা করছে নাসা। মঙ্গলে বসতি নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়েও নানা বিচার বিশ্লেষণ ও যাচাই বাছাই চলছে।

তবে সাম্প্রতিক এই আইন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি স্নায়ু যুদ্ধের সময় রাশিয়াকে মহাকাশ গবেষণায় পেছনে ফেলতে বিশেষ ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৬১ সালের ২৫ মে কংগ্রেসে বক্তব্যের সময় বলেছিলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানুষ পাঠিয়ে চাঁদের বুকে মার্কিন পতাকা উড়াবেন। এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে নিরাপদে নভোচারীদের ফেরতও আনবেন।

ফলে সেই সময়ের মধ্যেই অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে চাঁদে মানুষ পাঠায় নাসা। যদিও নিন্দুকেরা বলে থাকেন, জেএফকে’র কথার মূল্য রাখতেই সেবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর নাটক সাজায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। যেখানে পৃথিবীর কক্ষপথেই মানুষ পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছিল নাসা, সেখানে সরাসরি চাঁদে অভিযান নানা প্রশ্নেরই জন্ম দেয়।

মঙ্গল গ্রহে পানি রয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়ার পর শুধু নাসা’ই নয়, গ্রহটিতে যান পাঠিয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, সৌদি আরব। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও মঙ্গলে অভিযান চালিয়েছে। শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানই নয়, স্পেস এক্স’এর মত মার্কিন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর অভিযানের বহর দেখে মনে হতেই পারে, মঙ্গলে যে আগে পৌঁছবে সেই যেন গ্রহটির দখল নেবে। তবে এই দৌঁড়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এগিয়ে থাকে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: