কোভিড কোনো শ্বাসরোগ নয়, জানা গেল সাম্প্রতিক গবেষণায়

মোঃ এম,এন,আজিম,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাস নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই কমছে না। যতই দিন যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার হচ্ছে।এই তথ্য গুলো বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। সম্প্রতি সল্ক ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজিক্যাল স্টাডির গবেষকরা কোভিড-১৯ নিয়ে নতুন তথ্যের প্রমাণ দিলেন।

তাদের ভাষ্য মতে, কোভিড আসলে ভাস্কুলার ডিজিজ বা রক্তনালি সম্বন্ধীয় রোগ। এটি শ্বাসযন্ত্রের পাশাপাশি রক্তনালি এবং মানুষের দেহ কোষেও ভয়ঙ্করভাবে প্রভাব বিস্তার করে । আর তার মারণঘাতী হাতিয়ার হল স্পাইক প্রোটিন।

৩০ এপ্রিল,২০২১ সার্কুলেশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে কোভিড-১৯ নিয়ে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশিত হয়। গবেষণাটিতে সল্ক-অধ্যাপকদের যৌথভাবে জড়িত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও। গবেষণাটির মূল লক্ষ্য ছিল, কোভিডের কারণে শ্বাসযন্ত্রের পাশাপাশি আর কি কি আনুষঙ্গিক শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হয় তার অনুসন্ধান করা। আর সেই কারণ খুঁজতে গিয়েই গবেষণায় বেরিয়ে আসে এই নতুন তথ্য বা স্পাইক প্রোটিনের ঘাতক চরিত্র।

সাধারণত, কোভিড-১৯ অন্য যে কোনো ভাইরাস বাহক বা জিনের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই ক্ষতিসাধন করে মানবদেহে। এক্ষেত্রে আরএনএ-র পাশাপাশি পৃথকভাবে ‘বিষক্রিয়া’ করে থাকে তার স্পাইক প্রোটিনও। যা মূলত আক্রান্ত করে রক্তনালিকে। ধমনী এবং শিরার এন্ডোথেলিয়াল কোষে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারে স্পাইক প্রোটিন। এমনকি মাইটোকন্ড্রিয়ার আণবিক গঠনকেও স্পাইক প্রোটিন ভেঙে ফেলে পুরোপুরি ক্ষমতা রাখে এই স্পাইক প্রোটিন । যার ফলে মৃত্যু হতে থাকে দেহকোষের।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক উরি মনরো জানিয়েছেন, কোভিডের কারণে অনেক সময় স্ট্রোক কিংবা একাধিক অঙ্গের ব্যর্থতার জন্য দায়ী এই ঘটনাই। সেই কারণেই কোভিডকে ‘ভাস্কুলার ডিজিজ’ হিসাবেই চিহ্নিত করছেন তাঁরা।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই প্রথম সারির গবেষকরা করোনার এই ঘাতক চরিত্রটির ব্যাপারে সন্দেহ করেছিলেন। তবে তার এতদিন কোন প্রমাণ মেলেনি । এবার গবেষণাগারে বিস্তারিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হল বিষয়টি। দিয়েছেন যথাযথ ব্যাখ্যাও। বিষয়টির পর্যাবেক্ষণের জন্য একটি সিউডোভাইরাসের উপরে আসল করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন প্রতিস্থাপন করেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ, কৃত্রিম এই ভাইরাসের মধ্যে কোনো রোগবাহী জিনের অস্তিত্ব ছিল না। তারপর তা পরীক্ষাগারে প্রয়োগ করা হয় প্রাণীদেহে। কিন্তু জিনের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রাণীদেহের ফুসফুস এবং ধমনীতে ক্ষতি করে সিউডোভাইরাসটি। ক্ষতিগ্রস্ত কলার নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকরা নিশ্চিত হন, এর জন্য দায়ী করোনার স্পাইক প্রোটিনই।

ফুসফুসেই হানা দেয় করোনাভাইরাস – এমন প্রচলিত ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এতদিন চিকিৎসা করা হচ্ছিল কোভিডের।এতদিন পর্যন্ত সঠিক ধারণা না থাকায়, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া হত এই বিষয়টিকে। তবে যথাযথ প্রমাণ পাওয়ার পর এবার দ্রুত বদল আসবে চিকিৎসা পদ্ধতিতেও, জানাচ্ছেন গবেষকরা। স্পাইক প্রোটিনের সংক্রমণকে কীভাবে আটকানো যায়, সে-ব্যাপারে শুরু হচ্ছে গবেষণা।

সল্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রতিষেধকের অনুসন্ধানে নেমেছেন চিনের জিয়াং জিয়াটং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও। সেই খোঁজ মিললে আগামীদিনে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদী গবেষকরা।

তথ্যসূএঃ  সাইটেক ডেইলি

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3