সস্তা জনপ্রিয়তা ও রাতারাতি তারকা হবার নেশায় মরিয়া তরুণ সমাজ

torun

নিউজ ডেস্কঃ সারাদেশেই চলছে টিকটক-লাইকির মাধ্যমে কিশোর কিশোরীদের রাতারাতি তারকা খ্যাতি পাওয়ার নেশা। দল বেঁধে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলে কন্টেন্ট তৈরির কাজ। স্মার্ট ফোন সহজলভ্য হওয়ায় তা দিয়ে চলে সুটিং। স্মার্ট ফোনেই চলে সম্পাদনার কাজ।

দলবেঁধে এসব কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই হয় সংঘর্ষ। আর সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে গ্যাং কালচার। রাতারাতি তারকা খ্যাতির আশায় চলে অশ্লীল ভিডিও তৈরির কাজ। আর সেখান থেকেই জড়িয়ে পড়ছে যৌনতায়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুস্থ মানসিক বিকাশ না থাকায় এসব অপরাধ বাড়ছে। অ্যাপকেন্দ্রিক নৈতিক অবক্ষয়ের পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

এ বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, টিকটক ব্যবহার করে কারা এসব অপরাধ কার্যক্রম করছে, কারা কিশোর গ্যাং তৈরি করছে, কোন মেয়েকে ভিক্টিম করছে কি না, তা আবার মানব পাচার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে কি না এই জিনিসগুলো এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ গবেষক তৌহিদুল হক বলেন, এই টিকটকের সাথে জড়িত হচ্ছে তারা কিন্তু আলাদা একটা জগত তৈরি করছে। সেই জগত কিন্তু অপরাধ কেন্দ্রিক জগত। তার মানে এই জগতের মানুষ যখন কোন নেতৃত্বের জায়গায় যাবে তখনকার সমাজ এবং রাষ্ট্র কেমন হতে পারে তা কিন্তু এখনই আমরা চিন্তা করতে পারি।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, লাইকি-টিকটক অ্যাপ হচ্ছে যৌনতার যোগসূত্র। এর মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর শুরু হয় নোংরামি।

প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান যোহা বলেন, টিকটকসহ অন্যান্য অ্যাপগুলোতে যৌনাচার, সাইবার অপরাধ এবং মানব পাচারের মত যেসকল আছে এতে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের নতুন প্রজন্ম ডার্ক নেট বা ডিপ নেটের আসক্তি রয়েছে। এই ডার্ক নেট বা ডিপ নেটের বিষয়ে এখনই সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে নজরদারি করা দরকার।

শিশু কিশোরদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা দূর করা ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো দরকার বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3