কীটপতঙ্গের সাহায্যে রোগ শনাক্তের উপায় বের করলেন গবেষকেরা

রাগীব হাসান বর্ষণঃ বিজ্ঞানীরা অনেকদিন থেকেই দ্রুততম সময়ে ও কম খরচে রোগ শনাক্তের নানা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে আসছেন। এক সময় কুকুরের শক্তিশালী ঘ্রানশক্তি ব্যবহার করে রোগ শনাক্তের চেষ্টা চালান গবেষক দল।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অনেক প্রবল তা সবাই জানে। কিন্তু তা ঠিক কতটা শক্তিশালী? ২০ টা অলিম্পিক সুইমিং পুলের সমান আকারের জলাশয়ে যদি একফোঁটা রক্ত ফেলা হয় তাহলেই কুকুর সেই রক্তের ঘ্রাণ অনুভব করতে পারবে, এই শক্তিশালী ঘ্রাণশক্তি অনেকদিন থেকেই মানুষ ব্যবহার করে আসছে। বিমানবন্দর থেকে পুলিশ স্টেশন সবজায়গাতেই অপরাধী শনাক্ত, মাদক শনাক্তের কাজে কুকুর আমাদের সাহায্য করে আসছে। যে সকল কাজ সরাসরি করা ঝুকিপূর্ণ যেমন বোমা শনাক্তকরণ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্ত করা এসব কাজেও কুকুরের জুড়ি মেলা ভার।

এগুলো গেলো সাধারণ কাজ যা আমরা সচরাচর দেখি কুকুরকে করতে কিন্তু কিছু কাজ আছে যা অবাক করা হলেও কুকুর পারে শনাক্ত করতে তাদের ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে। এমনই একটি কাজ হলো মানুষের রোগ শনাক্ত করা।

২০১৯ সালের এক গবেষণাতে দেখা যায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুর ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের নমুনা থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত নয় এমন রোগীদের রক্তের নমুনা আলাদা করতে সক্ষম। এমনকি সম্প্রতি জার্মানির একদল গবেষক কয়েকটি কুকুরকে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করেছে যে তারা কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের লালার নমুনাকে আলাদা করতে সক্ষম এবং তাদের সফলতার হার ৯৪ শতাংশ।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি এক্ষত্রে আশা জাগালেও এখানে কিছু সমস্যা আছে যেমন কুকুরকে একটি নির্দিষ্ট রোগ শনাক্তের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া অনেক সময়ের ব্যাপার আর কুকুরের উপর অনেক চাপ পড়ে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে যার কারণে অল্পতেই কুকুর ক্লান্ত হয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি আমরা ফলে যে মাছি বসতে দেখি সেই ফ্রুট ফ্লাই, Caenorhabditis elegans নামে একপ্রকার নেমাটোড এমনকি মৌমাছি আশার আলো দেখাচ্ছে এ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব কোনসটানজ এর ড. জিওভানি গ্যালিজিয়া এমনই একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি বলেন ফ্রুট ফ্লাই তার এন্টেনা দিয়ে গন্ধ নিয়ে থাকে, তার ল্যাবের মাছিরা যখন এন্টেনা ব্যবহার করে কোনকিছুর গন্ধ নেয় তখন সেই মাছির ব্রেইন এক্টিভিটি একটি প্যাটার্ন তৈরি করে। ড. গ্যালিজিয়া কম্পিউটারের মেশিন লার্নিং এর সাহায্য এই প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে বলতে পারেন মাছিটি সুস্থ কোষের গন্ধ পাচ্ছে নাকি কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের গন্ধ পাচ্ছে, তিনি আরো বলেন মাছি দ্বারা এই কাজ করানোর আগে তিনি মাছির জিনে কিছুটা পরিবর্তন আনেন।

ড. গ্যালিজিয়ার সাফল্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন করবে তা বলাই বাহুল্য।
যদিও এর আগে হিরোৎসু টাকাকি, কিউশু ইউনিভার্সিটি জাপানে C. elegans নামক একপ্রকার কৃমি দিয়ে ক্যান্সার শনাক্তে সাফল্য পান ২০১৫ সালে এবং ২০১৬ সালে হিরোৎসু বায়োসায়েন্স নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, বর্তমানে তিনটি জায়গাতে এই কোম্পানির কার্যক্রম চলমান জাপানে।

বর্তমানে ক্যান্সারের কারণে বিশ্বে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন অকালে, ক্যান্সারে মারা যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারন দেরিতে ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারা আর ক্যান্সার শনাক্তের পরীক্ষা অনেক ব্যায়বহুল হওয়াতে অনুন্নত দেশের মানুষ অনেকসময় পরীক্ষাও করাতে পারেনা তাইতো পোকা বা কৃমি থেকে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতির প্রতি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ অনেক আগে থেকেই।

তাই বলা চলে বিজ্ঞানীরা যদি সত্যি পোকা বা কৃমি থেকে রোগ নির্ণয়ের কার্যকারী কোন উপয়া বের করতে পারে তা পুরা চিকিৎসা ব্যাবস্থাকেই পরিবর্তিত করে দেবে এবং ঠেকানো যাবে অনেক মৃত্যু।

সূত্রঃ ইকোনমিস্ট ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,