ছত্রাকের সহায়তায় মশা নিধনের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন বাঙালি গবেষক

সাবরিন জাহান:

মশা বাহিত বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকেনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের বাহক হলো মশা। ইদানীং ডেঙ্গুর প্রভাবে ধরাশায়ী হচ্ছেন আমাদের দেশের অনেক মানুষ এবং আমরা সবাই মশা বাহিত এই রোগগুলোর ভুক্তভূগী।

তবে মশার এই দৌরাত্ন্য রোধকল্পে মশা নিধনের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টেনারি কলেজের অধ্যাপক ডঃ স্বপন ঘোষ। অবাক হলেও সত্যি যে, এক ধরনের ছত্রাকের সহায়তায় কাজটি করেছেন তিনি।

ছত্রাকের ভয়াবহতা কিছুদিন আগেই আমরা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ থেকে বুঝতে পেরেছি। তবে এই ছত্রাককেই রক্ষাকর্তার ভূমিকায় পরিচয় করিয়ে দিলেন ডঃ ঘোষ। মশার লার্ভাকে নিধন করবে ছত্রাক। এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই এমনটি বলেছেন এই বাঙালি গবেষক।

ট্রাইকোডারমা অ্যাসপেরেলাম নামের ছত্রাকটিই হবে মশাদমনের হাতিয়ার। তবে ছত্রাকটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো আবিষ্কার নয় বরং দীর্ঘদিন ধরেই এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে জৈব কীটনাশক হিসাবে। কিন্তু মশার লার্ভাদমনে এই ছত্রাকের কার্যকারিতা অজানা ছিল সবারই। আর তারই সন্ধান দিলেন ডঃ স্বপন ঘোষ।

ফাঙ্গাসের এই বিচিত্র বৈশিষ্ট্যটি নজরে আসার পর ডঃ ঘোষ ছাত্রদের নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেন। বিভিন্ন রাজ্যে ছত্রাকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ চার বছর গবেষণার পর সম্প্রতি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেন তিনি যা সত্যিই অভাবনীয়ই। কারণ মাত্র কয়েক ফোটা ছত্রাকের সলিউশন পানিতে জমে থাকা অনেকগুলো মশার লার্ভা নিধন করতে সক্ষম এবং ছত্রকটি সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।

আবদ্ধ পানিতে সলিউশন প্রয়োগের পর ছত্রাকটি থেকে নিসৃত কাইনিটেজ ও প্রোটিয়েজ নামের দুটি উৎসেচক আটকে যায় মশার লার্ভার গায়ে। এই উৎসেচকগুলিই লার্ভার কোষপ্রাচীর ধ্বংস করে এবং মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই মারা যায় মশার লার্ভা। সম্প্রতি পত্রিকা ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাপত্র।

তবে ব্যবহারিক প্রয়োগ শুরু হতে আরও বেশ কিছু দিন করতে হবে এর অনুমোদনের অপেক্ষা। তারপর শুরু হতে পারে ট্রাইকোডারমা অ্যাসপেরেলামের ব্যবহার। এবং এর কল্যাণে মশা বাহিত রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব হবে এমনটাই আশা সবার।

  •  
  •  
  •  
  •